চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা ও কক্সবাজারের টেকনাফে র্যা ব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পৃথক অভিযানে প্রায় ১০ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে পতেঙ্গা থেকে ৬ লাখ ইয়াবা বড়িসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যা ব-৭। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনই মিয়ানমারের নাগরিক। গত শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে নগরের পতেঙ্গা থানার চরপাড়া বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
র্যা ব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মো. মিমতানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যা বের একটি দল পতেঙ্গার চরপাড়ায় অভিযান চালায়। সেখানে ইয়াবা বড়ি হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তার মিয়ানমারের নাগরিকেরা হলেন নুর কবির, জামাল হোসেন, বশির আহমেদ, জবি উল্লাহ, বশি উল্লাহ ও আকতার হোসেন। তাঁদের সবার বাড়ি মিয়ানমারের মংডুতে। বাকি দুজন হলেন চট্টগ্রামের পটিয়ার আলী হোসেন ও আনোয়ারার মো. শাহজাহান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা স্বীকার করেছেন ইয়াবাগুলোর মালিক আনোয়ারার হাসান মাঝি, সাবের আহমদ ও হাসান মিয়া। তাঁরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
মিমতানুর রহমান বলেন, চলতি বছরে ইয়াবা উদ্ধারে এটি র্যা বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চালান। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৫ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৯ নভেম্বর গভীর সাগরে অভিযান চালিয়ে মাছ ধরার একটি ট্রলার থেকে ৭ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে র্যা ব। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় মিয়ানমারের চার নাগরিকসহ সাতজনকে।
এদিকে শনিবার রাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়ার নাফ নদীর জলিলের দিয়া এলাকা থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। নাফ নদীতে পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া একটি নৌকা থেকে এসব ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। তবে ইয়াবা বহনকারী নৌকাটি জব্দ করা হয়েছে।
টেকনাফ ২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী বলেন, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান জলিলের দিয়ার উত্তর পাশে নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে—এমন তথ্য ছিল বিজিবির কাছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবুজার আল জাহিদের নেতৃত্বে রাত সাড়ে নয়টার দিকে একটি দল সেখানে যায়। রাত ১১টার দিকে টহল দলের সদস্যরা দেখতে পান একটি নৌকা সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসছে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকা থেকে নদীতে লাফ দেন কয়েকজন লোক। তাঁরা সাঁতরে নদীর মিয়ানমার অংশের দিকে চলে যান। পরে নৌকাটিতে তল্লাশি করে তিনটি বস্তা পাওয়া যায়। এসব বস্তায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা বড়ি ছিল।
মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী বলেন, উদ্ধার করা ইয়াবা বড়িগুলো ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন