ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের হাজিডাঙ্গি এলাকায় পদ্মা নদীতে আড়াআড়ি বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা। এতে চরভদ্রাসন ও ফরিদপুর সদরের জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মোতালেব মোল্লা পাবনার সুজানগর উপজেলার ২০ জন জেলের মাধ্যমে নদীতে ওই বেড়া দিয়ে এক মাস ধরে মাছ শিকার করছেন। বেড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে মোতালেব মোল্লা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। জীবন-জীবিকার তাগিদে মাছ ধরছি। আর মাত্র কয়েক দিন নদীতে মাছ ধরা পড়বে। এরপর আমি বেড়া তুলে নেব।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, চরভদ্রাসন সদরের হাজিডাঙ্গি এলাকায় পদ্মা নদীতে পূর্ব-পশ্চিমে আড়াআড়িভাবে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। বেড়ার দৈর্ঘ্য প্রায় আধা কিলোমিটার। বেড়ার পানির নিচের অংশে কারেন্ট জাল দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। বেড়ার এক প্রান্ত সদরের হাজিডাঙ্গি এলাকায়, অন্য প্রান্ত ঝাউকান্দা ইউনিয়নের কল্যাণপুরে গিয়ে ঠেকেছে। ট্রলার বা বিভিন্ন জলযান যাওয়ার জন্য বেড়ার মাত্র ১০ গজ জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে।
উপজেলার জয়দেব মণ্ডলের ডাঙ্গি, মধু ফকিরের ডাঙ্গি এলাকার জেলে ধোলাই মিয়া, তপন সিকদার ও রহমত শেখ জানান, বেড়ার কারণে তাঁরা নদীতে অবাধে মাছ ধরতে পারছেন না। মোতালেবের লোকজন তাঁদের ওই বেড়ার আশপাশে ঘেঁষতেও দিচ্ছেন না। এতে তাঁরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল এলাকার জেলে হারুন মিয়া, কুদ্দুস ফকির, মো. ছালাম ও ইছাক জানান, নদীর ভাটি অংশে বেড়া দেওয়ায় তাঁরা উজান থেকে মাছ পাচ্ছেন না। এ ছাড়া বেড়ার কারণে নদীতে যন্ত্রচালিত নৌযানসহ বিভিন্ন ধরনের যান ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না। হাজিগঞ্জের নৌকার মাঝি জলিল মিয়া বলেন, ‘ওই বেড়া ও জালের জন্য সেখানে আমাদের ঠিকমতো চলাচল করতে দেয় না বেড়ার সঙ্গে জড়িত লোকজন।’
১৯৫০ সালের মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, কোনো নদী বা জলধারের ওপর আড়াআড়ি বাঁধ বা বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করা যাবে না।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মালিক তানভীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমার গোচরে আছে। আমি এককভাবে এটি অপসারণ করার উদ্যোগ নিতে পারি না। বিষয়টি ইউএনও সাহেবকে জানিয়েছি। বেড়া অপসারণে আমরা সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাসিরউদ্দীন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ওদের দিয়েই বাঁশ তুলে ফেলা হয়েছিল। ওরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এ কাজ আর করবে না। আবার যেহেতু বেড়া দিয়েছে, এবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বেড়া অপসারণ করা হবে।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন