বিজ্ঞাপন

গত ৩ মে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে আসার পথে কাঁঠালবাড়িতে নোঙর করা বাল্কহেডকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি দ্রুতগতির স্পিডবোট। এতে স্পিডবোট উল্টে প্রাণ হারান ২৬ জন যাত্রী। আহত হন স্পিডবোটের চালকসহ পাঁচজন।

এ দুর্ঘটনায় চরজানাজাত নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) লোকমান হোসেন বাদী হয়ে শিবচর থানায় ঘাটের ইজারাদার শাহ আলম খান, স্পিডবোটের দুই মালিক চান্দু মিয়া ও রেজাউল হক এবং চালক শাহ আলমের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় মাদারীপুরের জেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আজহারুল ইসলামকে প্রধান করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই তদন্ত কমিটি স্পিডবোট ঘাটের অবস্থাপনার প্রমাণ পান এবং ২৩টি সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পাঠায়। এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকেও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যদিও বিআইডব্লিউটিএর করা তদন্ত প্রতিবেদনটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

দুর্ঘটনায় আহত চালক শাহ আলমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রশাসনের নির্দেশে তাঁর ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়। পরে তাঁর ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তিনি ইয়াবা ও গাঁজায় আসক্ত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শাহ আলম নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ভাতা ঈদগাহপুর এলাকার আবুল কালামের ছেলে। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা শেষ করে গাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করেন তিনি। প্রায় ১৮ বছর আগে শিমুলিয়ায় আসেন কাজের সন্ধানে। পরে স্পিডবোট চালানো শুরু করেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে শাহ আলমের। তাঁদের দুই সন্তান থাকে নানা বাড়িতে। শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় থাকেন তিনি। তবে এখানে নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা তাঁর নেই।

নৌপুলিশের করা মামলার আসামিদের মধ্যে স্পিডবোটের মালিকদের একজন চান্দু মোল্লাকে ৯ মে ঢাকার কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপরেই চালক শাহ আলমকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ। শিমুলিয়া স্পিডবোট ঘাটের ইজারাদার শাহ আলম খান এবং স্পিডবোটের অপর মালিক রেজাউল হক এখনো ধরা পড়েননি। ইজারাদার শাহ আলম খান মুন্সিগঞ্জের মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন খানের ছোট ভাই।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন