default-image

রাজশাহীতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শক আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করা এবং কর্ম এলাকার বাইরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া লাইসেন্স নবায়ন করে দেওয়ার কথা বলে আজহারুল ইসলাম অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স এনে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নবায়ন করে দেওয়ার জন্য তাঁর লাইসেন্স আনার কথা নয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার পরিদর্শক তাঁকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আজহারুল ইসলামের পদবি শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ)। তিনি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের রাজশাহী উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে কর্মরত আছেন।

এই কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কর্ম এলাকা পুনর্বণ্টনের পরও আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে কখনো লাইসেন্স দেওয়ার নাম করে, কখনো নবায়ন করে দেওয়ার নাম করে লাইসেন্সসহ কাগজপত্র এবং অনৈতিক অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক সরাসরি কার্যালয়ে এসে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করবেন। এই পরিদর্শক গত ৪ এপ্রিল তাঁর কর্ম এলাকার বাইরে ভোলাহাটে একটি কারখানার লাইসেন্স নবায়ন করে দেওয়ার জন্য নিয়ে আসেন। রাজশাহী কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়া নওগাঁয় একটি উদ্বুদ্ধকরণ সভার জন্য গিয়ে জানতে পারেন, পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম অর্ধশতাধিক লাইসেন্স নবায়নের জন্য নিয়ে এসে ফেরত দেননি। চালকলমালিকেরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে তিনি আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া উপমহাপরিদর্শক গত ১৬ সেপ্টেম্বর নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় উত্তরা কোল্ডস্টোরেজে পরিদর্শনে গিয়ে জানতে পারেন, হিমাগারটির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে ২০১৬ সালে এবং শ্রমিকসংখ্যা লাইসেন্সের ক্যাটাগরি থেকে অনেক বেশি, এটা জেনেও তিনি (আজহারুল ইসলাম) লাইসেন্স সংগ্রহ করেছেন এবং মালিকানা ও ক্যাটাগরি পরিবর্তন না করেই নবায়ন করিয়েছেন। এ ছাড়া দুই মাস আগে চার–পাঁচজন লোকসহ ওই হিমাগার পরিদর্শনের নাম করে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নিয়ে এসেছেন। কিন্তু কার্যালয়ে তা জমা দেননি।

২১ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড প্লাস্টিক ফ্যাক্টরির মালিক উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে এসে অভিযোগ করেছেন, পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম তাঁদের চারটি লাইসেন্স নবায়নের জন্য সংগ্রহ করে এনেছেন এবং অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। লাইসেন্সগুলো নিজের কাছেই রেখে দিয়েছেন। এর আগে ২৬ আগস্ট মহাদেবপুর চালকল মালিক সমিতির দুই কর্মকর্তা একই অভিযোগ করেছেন।

গত শুক্রবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। আমি গ্রামের বাড়িতে রয়েছি। কারণ দর্শানোর নোটিশ হাতে পাইনি। কেন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা–ও জানি না। আমি শুধু উপমহাপরিদর্শককে কর্ম এলাকা পুনর্বণ্টনের জন্য বলেছিলেন। সেটা করা হয়নি।’

জানতে চাইলে উপমহাপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, পরিদর্শক আজহারুলের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ এসেছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য এর আগেও তাঁকে একবার বদলি করা হয়েছিল। পরে তিনি আবার রাজশাহীতে এসেছেন। এখন তাঁর দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে গেছে। তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘তাঁকে (আজহারুল) সতর্ক করতে গেলেই উল্টো আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেখা প্রকাশ করেন। এখন আজহার আমাকেই বদলির চেষ্টা করছেন। বদলি করতে পারলে নতুন উপমহাপরিদর্শককেও বদলির ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে থাকা লাইসেন্সগুলো নবায়ন করে নেবেন। বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করবেন।’

মন্তব্য পড়ুন 0