ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মো. হাসিবুল খান নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার উপজেলার সলিমগঞ্জ এআরএম উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। হাসিবুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সলিমগঞ্জ এআরএম উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা শেষে মানবিক বিভাগের ছাত্র মো. হাসিবুল খান কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু ভুলে ফেলে আসা চশমা ও প্রবেশপত্র আনতে পুনরায় সে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে সলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের কনস্টেবল নয়ন চৌধুরী তাকে বাধা দেন। এতে ওই পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কনস্টেবলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নয়ন হাতে থাকা লাঠি দিয়ে হাসিবুলকে বেধড়ক পেটান। এতে সে আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় অন্য পরীক্ষার্থী ও তার আত্মীয়রা উদ্ধার করে তাকে সলিমগঞ্জের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসিবুলকে ঢাকার ডেমরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসিবুল শ্যামগ্রাম মোহনী কিশোর উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। সে উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের নাসিরাবাদ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম খানের ছেলে।
হাসিবুল মুঠোফোনে জানায়, ‘পরীক্ষা শেষে আমিও সবার মতো কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যাই। ভুলে কেন্দ্রে ফেলে আসা আমার প্রবেশপত্র ও চশমা আনতে কেন্দ্রে ঢুকতে চাইলে ওই কনস্টেবল আমাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হলে তিনি আমাকে পেটান।’
সলিমগঞ্জ এআরএম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব আহাম্মদ আলী বলেন, ‘হাসিবুলের ঘাড় ফুলে গেছে। তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা শেষে বিদ্যালয়ে এ ঘটনা নিয়ে আমরা বসেছিলাম। এ ঘটনায় কনস্টেবল নয়ন চৌধুরী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ছাত্রের চিকিৎসার ব্যয় পুলিশ বহন করবে।’
এ ব্যাপারে নয়ন চৌধুরী বলেন, ‘আমার যা বলার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বকর স্যারকে বলেছি। তিনি যা করার করবেন, তা আমি মাথা পেতে নেব।’
সলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের এসআই আবু বকর বলেন, ‘পরীক্ষার্থীকে পেটানোর কথা শুনে কেন্দ্রে ছুটে যাই। ওই পরীক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। নয়ন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন