নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ বছর ধরে জরুরি প্রসূতিসেবা বন্ধ আছে। গাইনি ও শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় ওই সেবা চালু করা যাচ্ছে না।

এতে শহরের প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে বেশি টাকায় সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ক্লিনিকগুলোতে সেবা নেওয়া সম্ভব হলেও গরিব শ্রেণির মানুষের পক্ষে তা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আইয়ুব হোসেন জানান, ২০০৯ সালে সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি প্রসূতিসেবা কার্যক্রমের (ইওসি) একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। শুরুতে গাইনি বিশেষজ্ঞ আফরোজা বেগমের তত্ত্বাবধানে প্রসূতি বিভাগের কার্যক্রম চালু ছিল। ২০১০ সালে তিনিসহ অবেদনবিদ বদলি হয়ে যাওয়ার পর সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৩ সালের ১৫ জুন গাইনি বিশেষজ্ঞ পদে জয়নব আক্তার যোগদান করেন। কিন্তু অবেদনবিদ পদে কেউ না থাকায় হাসপাতালটিতে প্রসূতিসেবা চালু করা যায়নি। পরের বছর জয়নব আক্তার বদলি হয়ে চলে যান। আর অবেদনবিদ পদে একজন যোগদান করলেও তিনি অলস সময় পার করছেন। এদিকে শিশু বিশেষজ্ঞ পদে রবিউল হক যোগদান করলেও বর্তমানে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেষণে আছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক থাকার ফলে ইওসি কার্যক্রম চালুর এক বছরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জন গর্ভবতী মা সেবা পেতেন। কিন্তু ২০১০ সাল থেকে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারসহ জটিল সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আইয়ুব হোসেন বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কমিটির সভায় এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না।

নাটোরের সিভিল সার্জন ফেরদৌস নীলুফা বলেন, বছরের পর বছর ধরে চিঠি চালাচালি করা হচ্ছে। তার পরও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন