বরিশাল সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজের জন্য পাঁচ মাস আগে দরপত্র আহ্বান করা হলেও কার্যাদেশ দিচ্ছে না প্রকৌশল বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, কার্যাদেশ পাইয়ে দিতে প্রকৌশলীরা টাকা দাবি করছেন।

সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ, গত বছর দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ পাওয়ার জন্য কাগজপত্রসহ দরপত্র অনুযায়ী পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও নানা অজুহাতে কার্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে না। কোনো কোনো প্রকৌশলী কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়ার জন্য টাকাও দাবি করেছেন। কার্যাদেশ না দেওয়ায় সড়ক সংস্কার, নালা নির্মাণসহ উন্নয়নকাজ বন্ধ রয়েছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন সড়ক মেরামত, নালা ও ফুটপাত নির্মাণের জন্য তিনটি অঞ্চলে ২৫০ গুচ্ছের(গ্রুপের)দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই কাজের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ‘গ’ অঞ্চলের ৬০ গুচ্ছের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর ‘ক’ অঞ্চলের ৯৪ এবং ‘খ’ অঞ্চলের ৯৬ গুচ্ছের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র আহ্বান শেষে সভা করে তিন অঞ্চলের ২১টি কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বাকিগুলো কার্যাদেশের অপেক্ষায় আছে।

‘খ’ অঞ্চলের ৯৬ গুচ্ছের দরপত্রে অংশ নেওয়া ঠিকাদার আলম খান বলেন, আজকাল করে পাঁচ মাস পার হলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। বর্ষার আগে কাজ না পেলে কাজ করা কঠিন হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, মূলত প্রকৌশলীরা কার্যাদেশ দেওয়ার জন্য অর্থ দাবি করেছেন। প্রতিটি কাজের বিপরীতে শতকরা ২ ভাগ অর্থ দিলে কার্যাদেশ দেওয়া হবে। অধিকাংশ ঠিকাদার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কার্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে কার্যাদেশ না দেওয়ায় বেশ কয়েকজন ঠিকাদার সিডির (সিকিউরিটি ডিপোজিট) টাকা ফেরত চেয়েছেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মোতালেব বলেন, ‘প্রকৌশল বিভাগ কারও কাছে অর্থ চেয়েছে, এমন কোনো নজির নেই। অহেতুক অভিযোগ তুললে তো হবে না। প্রমাণসহ অভিযোগ দিলে তখন দেখা যাবে। কাগজপত্র ঠিক না থাকলে তাঁরা কাজ পাবেন কীভাবে?’ অনেক গুচ্ছের কাজ হওয়ায় দরপত্র যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগছে বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে ঠিকাদারের কাজ করার জন্য টাকা আছে কি না, সেটাও দেখতে হয়। ইতিমধ্যে কয়েকটি কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শুধু দরপত্র আহ্বান করলেই হবে? অর্থ থাকতে হবে না? তাই কার্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে না।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, যেহেতু নিজস্ব অর্থায়নের কাজ। তাই আর্থিক সংকট কিছুটা আছে। সিডির অর্থ ফেরত চাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, মুখে মুখে বললে তো জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া যায় না। লিখিতভাবে কেউ অর্থ ফেরত চাননি।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন