বরগুনার তালতলী উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১০ কিলোমিটার বাঁধের দুই পাশের কয়েক হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি পাউবো ও বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে ওই গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পাউবো সূত্র জানায়, পাউবো তালতলী উপজেলার ৪৪ বি ও ৪৫ নম্বর পোল্ডারের আওতায় ১৮ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত করবে—এমন খবর পাওয়ার পর নকরিরখাল থেকে পচাকোড়ালিয়া স্লুইসগেট পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার বাঁধের দুই পাশের শিশু, মেহগনি, রেইনট্রি, তুলা, তাল, খেজুর, চাম্বল, বাবলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা শুরু হয়। গত এক মাসে এসব গাছের বেশির ভাগ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। এখনো তা কাটা অব্যাহত আছে।
পাউবোর কর্মকর্তারা জানান, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুই পাশে স্থানীয় বাসিন্দারা ২০-২২ বছর আগে এসব গাছ রোপণ করেন। তবে বাঁধের এসব গাছ কাটতে হলে নিয়ম অনুযায়ী পাউবোর অনুমতি নিতে হবে। মৌপাড়া এলাকায় সানু তালুকদার, গাবতলী এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য লিটন মোল্লা, তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় খালেক শরিফসহ বেশ কয়েকজন এসব গাছ কেটে নিয়েছেন। তবে লিটন মোল্লা গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো গাছ কাটিনি। শত্রুতা করে এসবের মধ্যে আমাকে জড়ানো হচ্ছে।’ সানু তালুকদার ও খালেক শরিফের সঙ্গে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তাঁরা ধরেননি।
ছোটবগী ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে যেসব গাছ সবুজবেষ্টনী প্রকল্পের, সেগুলো বন বিভাগ কাটবে। আর ব্যক্তিগতভাবে যাঁরা রোপণ করেছেন, তাঁরা নিজেরা কাটছেন। তবে কিছু গাছ বেওয়ারিশ আছে; সেগুলো হয়তো ওই ব্যক্তিরা কাটতে পারেন।’
গত বুধবার পচাকোড়ালিয়া স্লুইসগেট, মনসাতলী, বাঁশবাড়িয়া, জয়ালভাঙা, ফকিরবাড়ি, ছোটবগী বাজার, মৌপাড়া, তেঁতুলবাড়িয়া, গাবতলী, চরপাড়া, নকরিরখালসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক শ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এখনো গাছ কাটা অব্যাহত আছে। এগুলো আনুমানিক ২০-২৫ বছরের পুরোনো। ফকিরবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের ঢালের গাছ কাটছেন কয়েকজন শ্রমিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক বলেন, ‘যাগো গাছ হ্যারা এসব কাটতে আছে, আমরা দৈনিক মজুরিতে কাম করি মাত্র।’
পাউবোর তালতলী উপজেলা শাখার কর্মকর্তা (এসও) শাহ আলম বলেন, গাছ কাটার খবর পেয়ে তালতলী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
তবে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, পাউবোর পক্ষ থেকে কেউ কোনো মামলা করেনি। কেবল একটি জিডি করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, ‘বাঁধের নিয়ন্ত্রণ পাউবোর হাতে। তাই এ বিষয়টি দেখার দায়িত্ব তাদের। আমার কাছে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি।’
পাউবোর বরগুনা জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধ সংস্কারের জন্য সম্প্রতি আমি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের এসব গাছ নিলাম ডেকে কেটে ফেলার জন্য ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করে একটি চিঠি দিয়েছিলাম। এরপর কী করা হয়েছে তা বন বিভাগ আমাকে জানায়নি।’
বরগুনা-পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মিহির কুমার দো গতকাল সকালে বলেন, যে বাঁধের গাছ কাটা হচ্ছে, তা সামাজিক বাগানের নয়। এসব গাছ ব্যক্তি উদ্যোগে রোপণ করা হয়েছে। যেহেতু এটা পাউবোর বাঁধে রোপণ করা হয়েছে, তাই এগুলো কাটার ব্যাপারে পাউবোর অনুমতি লাগবে, বন বিভাগের এখানে কোনো দায়িত্ব নেই।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন