default-image

নরসিংদীর পৌর এলাকায় বাড়িতে ঢুকে মো. রবিউল্লাহ (৪৫) নামের এক পাটকলশ্রমিককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সোমবার সকালে নিহতের স্ত্রী নার্গিস বেগম বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে নরসিংদী মডেল থানায় মামলাটি করেন। এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

এর আগে রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পৌর শহরের কামারগাঁও এলাকায় বাড়িতে ঢুকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মো. রবিউল্লাহকে হত্যা করা হয়। ওই দিন বিকেলেই বাড়ির পাশের একটি মাঠে ফুটবল খেলার সময় স্থানীয় এক তরুণের সঙ্গে তাঁর ছেলের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
পুলিশ বলছে, রবিউল্লাহর ঘাড়ের বাঁ পাশে বড় আঘাতসহ কপালে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন আছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে তাঁর লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. রবিউল্লাহ ইউএমসি জুট মিলের একজন স্থায়ী শ্রমিক। তাঁর ছোট ছেলে টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক সজীব (২০) ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ির পাশের একটি মাঠে ফুটবল খেলতে যান। খেলার সময় বিকেল পাঁচটার দিকে রোহান (২০) নামের এক তরুণের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। উপস্থিত লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করে দুজনকে মিলিয়ে দেন। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সজীব বাড়িতে এসে কাজে চলে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রোহান একটি চাপাতি নিয়ে উত্তেজিত অবস্থায় সজীবদের বাড়িতে আসেন। এ সময় সজীবকে না পেয়ে তিনি তাঁর বাবা রবিউল্লাহর ঘাড়ে ও কপালে চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়ে চলে যান। এ সময় রোহানের কয়েকজন বন্ধু বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে রওনা হলে পথেই তিনি মারা যান।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী মামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আসামিদের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসামি গ্রেপ্তারের প্রশ্নে এখনই তাদের নাম আমরা প্রকাশ করতে চাইছি না। আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।’

মন্তব্য পড়ুন 0