বয়স মোটে তিন বছর। পুতুলের মতো মুখ। শিশুটি শুয়ে আছে হাসপাতালের বিছানায়। আদিবাসী এই শিশুটির যোনিপথ ছিঁড়ে পায়ুপথের সঙ্গে এক হয়ে গেছে। এমনি এমনি হয়নি। তার ওপর দিয়ে পাশবিক ঝড় বয়ে গেছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছে শিশুটি। অভিযোগ তারই আপন ফুফার বিরুদ্ধে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুটির পায়ুপথ পরিবর্তন করে পেট দিয়ে বের করে দিতে হবে। কিন্তু হতদরিদ্র আদিবাসী পরিবারের সেই খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সপ্তাহ খানেক ধরে চিকিৎসাধীন আছে শিশুটি। বাড়ি তার নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায়। ধর্ষণের ঘটনায় ফুফা সোম সরেনের বিরুদ্ধে নওগাঁর নিয়ামতপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত শুক্রবার হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় শিশুটির মায়ের সঙ্গে। ঘটনার তারিখ ঠিক করে বলতে পারেননি তিনি। তবে এইটুকু হিসাব তাঁর আছে, আগামী সোমবার ঘটনার ১৫ দিন হবে। তিনি বলেন, সোম সরেন ঘটনার দিন দুপুরে তাঁদের বাড়িতে তরকারি চাইতে এসেছিল। তরকারি নেওয়ার সময় বাচ্চাটাকেও নিয়ে গেল। সন্ধ্যার পরও বাচ্চা দিয়ে যায়নি। বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, বাড়ির পাশে নদীর ধারে নিয়ে গেছে শিশুটিকে। তারপর আর ফিরে আসেনি। পরের দিন সকালে খবর আসে মেয়েকে পাওয়া গেছে। তারপর ফুফার বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করেন তাঁরা।
শিশুটির মা আরও বলেন, সেখান থেকে মেয়েকে তাঁরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলেন। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলো। এখন মেয়ের অস্ত্রোপচার করাতে হবে। টাকাপয়সা নেই। মেয়ের বাবা হাসপাতালের বারান্দায় ঘুমান। একটা মুঠোফোন ছিল, তাও চোরে নিয়ে গেছে।
জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নওশাদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির অবস্থা ভয়াবহ। তার যোনিপথ ছিঁড়ে পায়ুপথের সঙ্গে এক হয়ে গেছে। এখন আর পায়খানার স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে তাতে ‘ইনফেকশন’ হয়েছে। তাঁরা চিকিৎসা করে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। এখন অস্ত্রোপচার করে পায়ুপথটা পেট দিয়ে বের করে দিতে হবে। দু-তিন মাস এভাবে থাকলে হয়তো ক্ষতস্থান দিয়ে আর মল যাবে না। তখন একটা অস্ত্রোপচার করার চেষ্টা করা যেতে পারে। এখন সেলাই দিলে থাকবে না।
মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হক বলেন, তিনি নিজে গিয়ে মামলা নিয়েছেন। টাকাপয়সা দিয়ে সাহায্য করেছেন। আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) পরিদর্শক নাজমা খানম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েটাকে আমাদের কাছে শোচনীয় অবস্থায় আনা হয়েছিল। আমরা কিছু করতে পারিনি। শিশুটিকে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে।’

সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ:

ব্যাটকা হাসতা

মোবাইল নম্বর: ০১৭২৯–৪৩৬৯৮৪

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0