নওগাঁর বদলগাছি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবদুল করিমের বিরুদ্ধে একটি প্রকল্পে সৌরবিদ্যুতের সোলার প্যানেল স্থাপনের নামে বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইডকলের সহযোগী নয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি সোলার প্যানেল কিনে প্রকল্পগুলোতে ব্যবহার করেছেন।
পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় চলতি অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সাংসদের কোটায় ১১৪ ও সাধারণ কোটায় ৮৩ দশমিক ২৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই দুই কোটায় মোট ১১০টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ৭৩টি সৌরবিদ্যুতের সোলার প্যানেল স্থাপন প্রকল্প। বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব সোলার প্যানেল বসানোর কথা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ৪০ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেল বসাতে এক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতি টন চালের সরকারি বাজারদর ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৮১ টাকা। একটি সোলার প্যানেল বসাতে এক টন চালের সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) সহযোগী কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে এসব সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম কিনতে হবে বলে নির্দেশ রয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ শেষ করার কথা।
এদিকে অন্তত ১৫-২০টি প্রকল্প ঘুরে জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যানরা কেউই নিজ উদ্যোগে সোলার প্যানেল স্থাপন করতে পারেননি। পিআইও নিজেই তা স্থাপন করে দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রকল্প চেয়ারম্যানদের কাউকে পুরো টাকাও দেওয়া হয়নি।
উপজেলার চাকরাইল দেওয়ান পাড়া জামে মসজিদ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান সোহেল দেওয়ান বলেন, ‘মসজিদের উন্নয়নে এমপি সাহেব এক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছিলেন। পিআইও সাহেব লোক পাঠিয়ে মসজিদে ৪০ ওয়াটের সোলার প্যানেল বসিয়ে দিয়েছেন। আমি এক টন চালের বিপরীতে মাত্র ছয় হাজার টাকা পেয়েছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পিআইও আবদুল করিম বগুড়ার খান মার্কেটের রুমন ইলেকট্রিক স্টোর নামক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে সোলার সিস্টেমের যন্ত্রাংশগুলো কেনেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ইডকলের ৪৫টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই স্টোরের নাম নেই।
এই প্রতিনিধি ১৭ ফেব্রুয়ারি নওগাঁর অন্য একটি উপজেলার প্রকল্পগুলোর জন্য সোলার সিস্টেমের ক্রেতা সেজে ওই দোকানে যান। দোকানের মালিক রুমন দাবি করেন, বদলগাছির পিআইও আবদুল করিম তাঁর আত্মীয়। তিনি এখান থেকে তাঁর উপজেলার জন্য সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ কিনেছেন। প্রতিটি ৪০ ওয়াটের সোলারের খরচ সম্পর্কে তিনি বলেন, বদলগাছির পিআইও একসঙ্গে অনেকগুলো প্রকল্পের মালামাল কেনায় তাঁর (করিম) ৪০ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেলের পেছনে আট হাজার টাকার একটু বেশি খরচ হওয়ার কথা।
পিআইও আবদুল করিমও রুমন ইলেকট্রিক স্টোর থেকে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলের মালামাল কিনেছেন বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এ উপজেলায় সোলার স্থাপনের প্রকল্প এটাই প্রথম। তাই মান নিশ্চিত করতে নিজেই সোলার সরবরাহ করছি। বিষয়টি ইউএনও স্যারও জানেন।’ ৪০ ওয়াটের সোলার প্যানেল স্থাপনের খরচ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্পে এক টন চালের সরকারি মূল্যের সমান অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজেই প্রকল্প বাস্তবায়নের ভাউচারে ৩৫ হাজার ৪৮১ টাকা করতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে প্রতি টন চাল বিক্রি হচ্ছে ২২ হাজার টাকায়। তবে সোলার প্যানেল স্থাপন ও স্ট্যাম্প খরচ বাবদ ১৬ হাজার করে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শওকত হুসাইন বলেন, ‘সোলার প্যানেলের মান নিশ্চিত করতে পিআইও সাহেব নিজেই প্রকল্পগুলোয় সোলার লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি বগুড়ার একটি দোকান থেকে মালামাল কিনেছেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে ৪০ ওয়াটের জন্য কত টাকা লেগেছে, তা আমাকে জানাননি।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন