default-image

নিজেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক বলে পরিচয় দিতেন। দাবি করতেন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত করোনা মহামারি-সংক্রান্ত প্রণোদনা প্যাকেজ প্রোগ্রামের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। পরিচিত লোকজনের সঙ্গে দেখা করতেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর ফটকের আশপাশের এলাকায়। এরপরই পাততেন ফাঁদ। প্রণোদনার টাকা পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখাতেন। বিনিময়ে চাওয়া কমিশনের টাকা হাতে পৌঁছানো মাত্রই দিতেন গা ঢাকা।

প্রতারণা করে মানুষের কাছ থেকে এভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ব্যক্তির নাম আশরাফ আলী খান। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে ও তাঁর সহযোগী আবদুল কাদির খানকে গ্রেপ্তার করেছে। গত বুধবার রাজধানীর মগবাজার থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হলেও অভিযানের কথা আজ শুক্রবার গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

আশরাফের বাড়ি দিনাজপুরের খানসামায়। আর কাদেরের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলে।

তেজগাঁও থানায় মো. সালাহউদ্দিন নামের এক ট্রাকচালকের করা মামলায় এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সালাউদ্দিনের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দীনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আশরাফের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে সালাহউদ্দিন বলেছেন, আশরাফ আলী প্রথমে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গাড়িচালক হিসেবে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে করোনা মহামারি–সংক্রান্ত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। আশরাফ তখন তাঁকে ঋণ পেতে ইচ্ছুক এমন আরও দুজন লোক সংগ্রহ করতে বলেন। নিজের দুই বন্ধুকে রাজি করানোর পর আশরাফের সঙ্গে তিনি গত ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর ফটকের সামনে দেখা করেন। তখন সেখানে আশরাফের সহযোগী আবদুল কাদির খানও উপস্থিত ছিলেন। তিনজনকে ৪৫ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩ লাখ টাকা কমিশন চান আশরাফ। দেনদরবার শেষে এক লাখ টাকায় রফা হয়।


সালাউদ্দিন বলেছেন, মৌখিক চুক্তির দিনই তাঁরা আশরাফকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেন। এরপর বিকাশের মাধ্যমে দুই দফায় বাকি ৫০ হাজার টাকা দেন। এরপর আশরাফ তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করতে বলেন। সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করে তাঁরা আশরাফকে অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠান। কিন্তু টাকা আর তাঁদের অ্যাকাউন্টে আসে না। আশরাফ ও তাঁর সহযোগী ফোনও বন্ধ করে দেন। খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এমন কেউ কাজ করেন না।

ডিবি গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুনায়েদ আলম সরকার প্রথম আলোকে বলেন, আশরাফ দীর্ঘদিন ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছিলেন। কখনো নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব, মহাপরিচালক, বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালক বা এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। এরপর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যেতেন। সর্বশেষ তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার প্যাকেজের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করছিলেন।

ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, আশরাফ গত বছর টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যুগ্ম মহাসচিব পরিচয়ে দেখা করেন। জেলা প্রশাসক তাঁর ভুয়া পরিচয় ধরতে পেরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের সাজা দেন। তখন আশরাফের পূর্বপরিচিত শিক্ষানবিশ আইনজীবী আবদুল কাদির খান তাঁর জামিনের ব্যবস্থা করেন। কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর দুজন মিলে আবারও প্রতারণা শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0