default-image

অর্থ পাচার মামলায় পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হককে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর প্রথম আলোকে বলেন, অর্থ পাচার মামলায় আসামি উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও রাশেদুল হককে আজ সোমবার বিকেলে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে দুদক। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত এই দুজন আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও রাশেদুল হককে গতকাল রোববার গ্রেপ্তার করে দুদক। মামলাটি তদন্ত করছেন দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।

অস্তিত্ববিহীন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দিয়ে ৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারসহ ২৪ জনের নামে রোববার মামলা করে দুদক। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি পি কে হালদারসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের মালিককে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন এবং ৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ২১ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচার মামলায় পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা ও তাঁর মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত। এই মামলায় পি কে হালদারের সহযোগী অবন্তিকা বড়াল ও পি কে হালদারের মামাতো ভাই শঙ্খ ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করে দুদক। তাঁদের প্রত্যেককে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছিলেন আদালত।

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন সম্প্রতি আদালতকে লিখিত এক প্রতিবেদন দিয়ে জানান, আসামি পি কে হালদার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।

তদন্তকালে জানা যায়, আসামি পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে আছেন। আসামি শঙ্খ ব্যাপারীও বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেন।

এর আগে গত বছরের ৮ জানুয়ারি প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

তাঁর বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা পাচারেরও অভিযোগ আনা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পি কে হালদার ও তাঁর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হয় প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, পি কে হালদারের হিসাবে ২৪০ কোটি টাকা এবং তাঁর মা লীলাবতী হালদারের হিসাবে জমা হয় ১৬০ কোটি টাকা। তবে এসব হিসাবে এখন জমা আছে মাত্র ১০ কোটি টাকার কম। অন্যদিকে পি কে হালদার এক ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বের করে নিয়েছেন।

পি কে হালদারের দখল করা প্রতিষ্ঠান চারটি হলো ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)। এর মধ্যে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য অবসায়ক নিয়োগ করা হয়েছে। চারটি প্রতিষ্ঠান দখলে নিলেও কোনো প্রতিষ্ঠানেই পি কে হালদারের নিজের নামে শেয়ার নেই। পি কে হালদার বিদেশে পলাতক রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন