পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. বাচ্চু (২৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে স্বরূপকাঠি পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 
নেছারাবাদের আউরিয়া গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে বাচ্চুকে ছাত্রশিবির-সমর্থক ‘সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবদুর রব বলেছেন, সে জামায়াত-শিবিরের কেউ নয়।
পিরোজপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুল কাদের বেগের ভাষ্যমতে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে স্বরূপকাঠি বাজার থেকে পেট্রল কেনার সময় বাচ্চুকে স্থানীয় জনতা আটক করেন। স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের নির্দেশে পেট্রল দিয়ে নাশকতা চালানোর কথা জনতার কাছে স্বীকার করেন বাচ্চু। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর রাতে পুলিশ দেলোয়ারকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাচ্চু স্বীকার করেন তাঁর কাছে পেট্রলবোমা ও ককটেল আছে। এগুলো উদ্ধার করতে রাতে তাঁকে নিয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। রাত আড়াইটার দিকে স্বরূপকাঠি বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফেরিঘাট মোড়ে গেলে পুলিশের কাছ থেকে বাচ্চুকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর সহযোগীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের গুলিবিনিময় হয়। সহযোগীদের ছোড়া দুটি গুলি বাচ্চুর ঘাড়ে ও কাঁধে বিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় নেছারাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন অর রশিদ ও কনস্টেবল বাবুল আহত হন। গুলিবিদ্ধ বাচ্চুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অরুন কুমার মণ্ডল বলেন, পুলিশ গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে রাত তিনটার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে আসার আগেই ওই ব্যক্তি মারা যায়।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শাহ আবিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাচ্চু ছাত্রশিবির-সমর্থক ‘সন্ত্রাসী’ ছিলেন। বাচ্চুর বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা আছে কি না, তা জানাতে পারেননি এসপি।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে বাচ্চুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, বাচ্চু তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকার অদূরে সাভারে থাকতেন। সেখানের একটি করাতকলের মিস্ত্রি তিনি। গত শুক্রবার সকালে বাচ্চু গ্রামের বাড়িতে আসেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন