বিয়ের আসর থেকে অপহরণের চেষ্টা

পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সা. সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা

গত শুক্রবার বিকেলে পিরোজপুর পৌরসভার শিক্ষা অফিস সড়কে ওই কলেজছাত্রীর বাসভবনে বিয়ের আক্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকেলে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনিরুজ্জামান লোকজন নিয়ে মেয়েটির বাড়িতে যান। এরপর ঘরে ঢুকে বরপক্ষের সামনে তিনি মেয়েটিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

পিরোজপুরে এক কলেজছাত্রীকে (২২) বিয়ের আসর থেকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনিরুজ্জামানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় মামলাটি করেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কলেজছাত্রীর পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে পিরোজপুর পৌরসভার শিক্ষা অফিস সড়কে ওই কলেজছাত্রীর বাসভবনে বিয়ের আক্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বরপক্ষ কনের বাড়িতে যান। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আক্দ অনুষ্ঠান শুরুর আগে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনিরুজ্জামান লোকজন নিয়ে মেয়েটির বাড়িতে যান। এরপর ঘরে ঢুকে বরপক্ষের সামনে তিনি মেয়েটিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় অনিরুজ্জামান পিস্তল বের করে ভয় দেখান। সেখানে উপস্থিত আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাধার মুখে তিনি সবাইকে হুমকি দিয়ে চলে যান। এ ঘটনার পর বরপক্ষের লোকজন ভয়ে বিয়ে বন্ধ করে চলে যান। সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

গত শুক্রবার বিয়ের আসর থেকে অনিরুজ্জামান আমার মেয়েকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আবদুল আলীম ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে দিলে বাসর ঘরে মেয়ের স্বামীকে হত্যা করা হবে।
মেয়েটির বাবার অভিযোগ
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মেয়েটির বাবা অভিযোগ করেন, ‘গত শুক্রবার বিয়ের আসর থেকে অনিরুজ্জামান আমার মেয়েকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েকে তুলে নিতে না পেয়ে অনিরুজ্জামান পিরোজপুর পৌরসভার ধুপপাশা মহল্লার আবদুল আলীম ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে দেওয়া যাবে না বলে আমাকে হুমকি দেন। অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হলে বাসর ঘরে মেয়ের স্বামীকে হত্যা করা হবে। এরপর আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হবে।’

ওই মেয়ের সঙ্গে আবদুল আলীমের প্রেমের সম্পর্ক আছে। আমি কয়েকজনকে মেয়েটির বাসায় পাঠাই। তাঁরা মেয়েটির বাবাকে বিয়ে বন্ধ করে আলীমের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। মেয়েটিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা হয়নি।
অনিরুজ্জামান, পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক

অভিযোগের বিষয়ে একই মামলার আসামি আবদুল আলীমের ভাষ্য, ‘আমার সঙ্গে ওই মেয়ের চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক আছে। গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মেয়েটি মুঠোফোনে আমাকে বলে যে তাঁর বাবা বিয়ে ঠিক করেছেন। বিকেলে বরপক্ষ আসছে। সে বিয়েতে রাজি না। তাঁর জন্য আমি যেন কিছু করি। এরপর আমি আমার বন্ধুদের বিষয়টি জানালে তাঁরা মেয়েটির বাসায় যান। মেয়েটির অনুরোধে তাঁর বাসায় যাই আমরা।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনিরুজ্জামানের ভাষ্য, ‘ওই মেয়ের সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীমের প্রেমের সম্পর্ক আছে। আমি কয়েকজনকে মেয়েটির বাসায় পাঠাই। তাঁরা মেয়েটির বাবাকে বিয়ে বন্ধ করে আলীমের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। মেয়েটিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা হয়নি। আমি নিজে সেখানে যাইনি।’

তবে মেয়েটির বাবা আলীমের সঙ্গে তাঁর মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ‘আবদুল আলীমের সঙ্গে আমার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। আলীম আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করায় তাঁর বাবাসহ জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামানের কাছেও বিভিন্ন সময় নালিশ করা হয়েছে।’


পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন