default-image

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের সহযোগী অবন্তিকা বড়ালকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন। প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।

মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, এই মামলায় প্রধান আসামি পি কে হালদারের সহযোগী অবন্তিকা বড়ালকে আদালতে হাজির করে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি নিয়ে আদালত অবন্তিকা বড়ালকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।

অবন্তিকা বড়ালকে আজ দুপুরের দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে দুদকের একটি দল।

দুদক সূত্র জানায়, পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ৮ জানুয়ারি মামলা করে সংস্থাটি। তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ পাচারেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তদন্তে অবন্তিকা বড়ালের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একই মামলায় ৪ জানুয়ারি পিকে হালদারের মামাতো ভাই আসামি শঙ্খ ব্যাপারীকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত। তিনি পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অংশীদার ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।

গত বছরের ২০ ডিসেম্বর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, পি কে হালদারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর বান্ধবীদের অ্যাকাউন্টে টাকা গেছে। পি কে হালদারের প্রতিষ্ঠানে অর্থ রেখে অনেকে হয়রানি–ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। ভুক্তভোগীরা তাঁর (খুরশীদ আলম খান) চেম্বারে গিয়ে দেখা করে কথা বলেছেন। পি কে হালদারের অনেক বান্ধবী থাকা ও তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা রাখার তথ্য মূলত ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল। তার আগে ৫ জানুয়ারি পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদারসহ ২৫ ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। তাঁরা যাতে বিদেশ না যেতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন অনুসারে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।

পি কে হালদার ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিদেশে পালিয়ে আছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন