পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে চলছে অবৈধ যানবাহন
বরিশাল নগরে বৈধ যানবাহনের চেয়ে অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা দ্বিগুণ। অনুমোদনহীন এসব যানবাহন চলছে পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে। এখান থেকে মাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বাণিজ্য করছে পুলিশ। আবার লাইসেন্স থাকা গাড়ি থেকেও তাঁরা টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সিটি করপোরেশনের যানবাহন শাখার তত্ত্বাবধায়ক মাইনুল ইসলাম জানান, নগরে বৈধ ইজিবাইকের সংখ্যা ২ হাজার ৬১০টি। কিন্তু বৈধর চেয়ে অবৈধের সংখ্যাই বেশি। অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েও বন্ধ করা যাচ্ছে না।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের যানবাহন শাখার সহকারী পরিমল রায় বলেন, নগরে প্রায় চার হাজার অবৈধ ইজিবাইক চলছে। প্রতি গাড়ি থেকে এক হাজার টাকা নেয় পুলিশ। একবার অবৈধ যানবাহন আটক করা হয়েছিল। পরে শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে তা ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।
নগরের পলাশপুর এলাকার অটো মালিক সমিতির প্রচার সম্পাদক সবুজ বলেন, তাঁদের লাইসেন্সবিহীন ৪০টি গাড়ি আছে। ট্রাফিক পুলিশকে এক হাজার টাকা ‘বিট মানি’ দিয়ে চালানো হচ্ছে গাড়িগুলো।
৮ ও ৯ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের সদর রোড, হেমায়েতউদ্দিন সড়ক, নৌবন্দর, নথুলাবাদ, রূপাতলী, হাসপাতাল রোডে অনুমোদনহীন ইজিবাইকের ভিড়। এসব ইজিবাইকের চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা প্রতি মাসে পুলিশকে বিট মানি দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ইজিবাইক চালক অভিযোগ করেন, সব ট্রাফিক সার্জেন্টই এর সঙ্গে জড়িত। যখন যে সার্জেন্ট গাড়ি আটক করেন, তখন তিনি ফোনে নিশ্চিত হন টাকা দেওয়া হয়েছে কি না। তারপর ছেড়ে দেন। আর পুলিশের সঙ্গে এই বাণিজ্যে সহযোগিতা করছেন বরিশাল জেলা ও মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান।
অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নগরে কিছু অবৈধ ইজিবাইক চলাচল করে। তবে তা আমাদের মাধ্যমে নয়। স্থানীয় কিছু লোক চালায়। পুলিশের সঙ্গেও আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’ অবৈধ যানবাহন ছাড়িয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, নবায়ন না করা কিছু গাড়ি সে সময় আটক করা হয়। সে জন্য সেগুলো ছাড়িয়ে আনা হয়েছে।
পুলিশকে টাকা দিয়ে অবৈধ যান চলাচলের বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আবু রায়হান মো. ছালেহ বলেন, ‘এ রকম তো কত অভিযোগই ওঠে। অভিযোগের ভিত্তি থাকতে হবে। কিছু সমিতির মাধ্যমে অবৈধ যানবাহন (ইজিবাইক) চলছে। এর সঙ্গে পুলিশ জড়িত নয়।’