ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পুলিশের হেফাজতে পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ইকবাল ভূঁইয়া (২৬) মারা গেছেন। গত রোববার রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সহকারী পুলিশ সুপারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।
ইকবাল ভূঁইয়ার পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ নির্যাতন করে তাঁকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ইকবাল আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এদিকে ইকবালকে গ্রেপ্তারের পেছনে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। গতকাল দলীয় লোকজনের সঙ্গে সেলিমের পরিবারের সদস্যদের সংঘর্ষে অন্তত নয়জন আহত হন।
বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অংশু কুমার দেব বলেন, সম্প্রতি উপজেলা সদরে একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দশদোনা গ্রামের মো. কামাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেই জবানবন্দিতে ইকবাল ভূঁইয়ার নাম থাকায় গত রোববার বিকেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে থানা হেফাজতে ইকবাল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিন্তু ইকবাল ভূঁইয়ার ছোট ভাই সাদ্দাম হোসেনের অভিযোগ, ‘আমার ভাইকে পুলিশ নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। তিনি নির্দোষ। উদ্দেশ্যমূলকভাবে পুলিশ তাঁরে নিয়া মাইরা ফালাইছে।’
পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া ইকবাল ভূঁইয়া কেরির বড়ি (কীটনাশক) খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ইকবাল ভূঁইয়ার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে কেরির বড়ির বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, খাদ্যগুদামে কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে এই বড়ি ব্যবহার করা হয়। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মৃত্যুর খবরে গতকাল সকালে স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পরিবারের লোকজনের সংঘর্ষে অন্তত ৯ নেতা-কর্মী আহত হন। এদের মধ্যে যুবলীগের অরুণ মিয়া ও উপজেলা ছাত্রলীগের শাহ আলম এবং মো. আলমগীরকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ছাত্রলীগ নেতা মো. সেলিম মুঠোফোনে বলেন, ‘ইকবালের গ্রেপ্তার ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে দলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন