পুলিশের তাড়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ, ভেসে উঠল লাশ

বিজ্ঞাপন

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় এলাকায় পুলিশের তাড়া খেয়ে করতোয়া নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজের এক দিন পর মোস্তাফিজার রহমান মাসুমের (৩৪) লাশ পাওয়া গেছে। আজ সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে করতোয়া নদীর যেখানে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, তার প্রায় এক কিলোমিটার ভাটিতে মোস্তাফিজার রহমানের লাশ ভেসে ওঠে।

মোস্তাফিজার রহমান রায়নগর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং মহাস্থান বারিদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা বজলুর রহমানের ছেলে। লাশ উদ্ধারের পরপরই বিক্ষুব্ধ লোকজন মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে এলাকাবাসী লাশ নিয়ে মহাস্থানহাট এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় আধঘণ্টা পর পুলিশ এসে উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে দেয় ও লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

বজলুর রহমান দাবি করেন, মাদকসেবনের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে আসা সাদাপোশাকধারী পুলিশ মোস্তাফিজার রহমানকে ধরতে ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে মোস্তাফিজার রহমান নদীতে ঝাঁপ দেন। পুলিশও নদীতে ঝাঁপ দেয়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মোস্তাফিজার রহমান নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। আজ সোমবার দুপুরে নদীতে তাঁর লাশ ভেসে ওঠে। বজলুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘পুলিশের আঘাতেই আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ হচ্ছে। এ জন্য মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানাচ্ছি।’

শিবগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে রোববার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে মহাস্থান নামাপাড়া গ্রামে পুলিশের একটি দল মাদক মামলার আসামি নয়ন মিয়াকে (৪০) ধরতে অভিযান চালায়। এ সময় তাঁকে দুই বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মহাস্থান বারিদারপাড়ার মোস্তাফিজার রহমান দৌড় দেন। পুলিশও পিছু ধাওয়া করে। এ সময় পুলিশের তাড়া খেয়ে মোস্তাফিজার রহমান করতোয়া নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান দাবি করেন, মোস্তাফিজার রহমানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পুলিশ অন্য আসামি ধরতে মহাস্থান বারিদারপাড়ায় গেলে মোস্তাফিজার দৌড় দেন। পুলিশ পিছু নিলে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ডাকা হলেও অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাঁর কোনো হদিস মেলেনি। আজ দুপুরে প্রায় এক কিলোমিটার ভাটি থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার হয়। পরে মাদক ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় কিছু লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ২০-২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন