কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের গুদিকাটায় পুলিশের সঙ্গে ‘গুলিবিনিময়ে’ মোহাম্মদ আলম (৩০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহত আলম ডাকাত ছিলেন। এ সময় ডাকাতের ছোড়া গুলিতে একজন সহকারী পুলিশ সুপারসহ পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন।

আহত লোকজন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আলম উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বদিউদ্দিন পাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টৈটং ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা গুদিকাটায় ডাকাতের দুই দল সদস্যের মধ্যে বড় ধরনের অস্ত্রের চালান কেনাবেচা হবে—এমন খবরে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ মতিউল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতেরা গোলাগুলি শুরু করে। এ সময় পুলিশও গুলি ছোড়ে। ‘গোলাগুলির’ একপর্যায়ে ডাকাতের অন্য সদস্যরা অস্ত্র, গুলিসহ আহত অবস্থায় আলমকে ফেলে পাহাড়ে ঢুকে পড়ে।

এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মতিউলসহ পুলিশের পাঁচজন সদস্য আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে দেশে তৈরি ১২টি বন্দুক ও ২৩টি গুলি উদ্ধার করা হয়। আলমের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর নির্যাতনসহ বিভিন্ন আইনে সাতটি মামলা রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ মতিউল ইসলাম, পেকুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেজবাহ উদ্দিন, মো. ইব্রাহিম ও কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলির দাগ আছে।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল আজম আজ সকাল নয়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ দ্রুত আহত পুলিশ সদস্য ও ডাকাতকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাকাত আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করবে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন