হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চারিনাও গ্রামে পুলিশের সামনে লিটন মিয়া (১৫) নামের এক কিশোরকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত লিটন মিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সে মারা যায়। তবে লিটনকে তাদের সামনে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার নিহত কিশোরের লাশের ময়নাতদন্ত হবিগঞ্জ সদর জেলা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জমির মাটি কাটা নিয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি চারিনাও গ্রামের পঞ্চায়েত নেতা জহুর আলীর ছেলে জামিল মিয়া একই গ্রামের শাহজাহান মিয়াকে মারধর করেন। এর জের ধরে পরদিন উভয় পক্ষে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আহত জহুর আলী (৭০) ৯ ফেব্রুয়ারি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছেলে রাজিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল আউয়াল সদর মডেল থানায় মামলা করেন। এতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী আকবর চৌধুরীসহ চারিনাও, ভাদুপাশা ও শেরপুর গ্রামের লোকজনসহ ৯৯ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলার ৬২তম আসামি ছিল লিটন মিয়া। সে সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন পায়। তার এ জামিন সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি বাদীপক্ষের লোকজন। লিটন মিয়ার নামে গত মাসের ২১ তারিখে ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও একটি মামলা দেওয়া হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে লিটন মিয়াকে বাড়ি থেকে ধরে আনেন আবদুল আউয়াল, জামিল মিয়াসহ তাঁদের স্বজনেরা। পরে তাঁরা লিটনকে মারধর করে হবিগঞ্জ সদর থানায় আসামি আটকের খবর দেন। খবর পেয়ে থানার উপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র হাজরার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতে লোকজন লিটনকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় লিটনকে ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ হবিগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত ১১টার দিকে মারা যায় কিশোর লিটন।
নিহত লিটনের বাবা তাউছ মিয়ার দাবি, তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে নির্যাতন করেন আবদুল আউয়াল ও তাঁর ভাই জামিল মিয়া। এ নির্যাতনেই তাঁর ছেলে প্রাণ হারিয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন বলেন, বাড়ি ভাঙচুরের একটি মামলার আসামি ধরতে পুলিশ চারিনাও গ্রামে যায়। দুজন আসামি ধরে থানায় ফেরার সময় জহুর আলী হত্যার বাদী আবদুল আউয়াল ফোনে পুলিশকে জানান, তাঁরা আরও একজন আসামি ধরে ফেলেছেন। পুলিশ ফোন পেয়ে পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় লিটনকে গ্রহণ করে। পরে পুলিশ লিটনকে হবিগঞ্জ সদর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে লিটন মারা যায়। লিটনের মরদেহের ময়নাতদন্ত আজ শুক্রবার একই হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।
লিটন মিয়াকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে আনা উপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র হাজরা প্রথম আলোকে বলেন, লিটন মিয়াকে তাঁরা আহত অবস্থায় পেয়েছেন। তবে তাঁদের সামনে লিটনকে মারধরের কথা তিনি অস্বীকার করেন।
হবিগঞ্জ সদর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, লিটন মিয়াকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনে পুলিশ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। আজ লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে।

‘হবিগঞ্জে ৬১টি পরিবারকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন গত ২৮ এপ্রিল প্রথম আলোয় ছাপা হয়েছে। এ প্রতিবেদনে উঠে আসে জহুর আলী হত্যার আসামিদের পরিবারের ওপর নানা নির্যাতনের ঘটনা। এ আলোচিত ঘটনার পরপরই বর্বরতার শিকার হলো কিশোর লিটন মিয়া।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন