মতিঝিলের ঘরোয়া হোটেলের কর্মচারী খুনের মামলা তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। ঘটনার ছয় মাস পরও পুলিশ হত্যা মামলাটির প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে নিহত কিশোরের স্বজনেরা বিচারের জন্য পুলিশের ওপর আর আস্থা রাখতে পারছেন না।
স্বামীবাগে গত ২৭ অক্টোবর মুঠোফোন চুরির অভিযোগে ঘরোয়া হোটেলের কর্মচারী মো. রিয়াদকে (১৬) মারধর ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হোটেলটির মালিক আরিফুল ইসলামের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। পরদিন রিয়াদের বড় ভাই মো. রিপন বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় আরিফুলকে।
মো. রিপন গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। খেতখামারে কাজ করে খাই। আমাদের তো টাকা নাই, তাই পুলিশও আমাদের কোনো খোঁজখবর নেয় না।’ আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘ভাইকে তো আর পাব না, বিচারের যে আশা ছিল, সেটাও শেষ হয়ে যাচ্ছে। পুলিশ কিছু করবে বলে মনে হয় না। আসামির নাম-ঠিকানাসহ সব পুলিশের কাছে আছে, কিন্তু পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করছে না।’
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের হাড়িয়াইন গ্রামে নিহত রিয়াদের বাড়ি। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট। বাবা মফিজুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর ২০১১ সালে বড় ভাই রিপনের সঙ্গে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসেছিল রিয়াদ। মা রোকেয়া বেগম বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। ঘটনার পর আতঙ্কে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যান রিপন। দিনমজুরের কাজ করে এখন মা-ছেলের সংসার চলে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন