বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর রাতে পাঁচ বছর বয়সী সানি মিয়া নিখোঁজ হয়। ছেলের সন্ধান না পেয়ে পরদিন সকালে ঝরনা বেগম ভগ্নিপতি চান মিয়াকে বিষয়টি জানান। ওই দিন রাতেই পুরানা পল্টন পুলিশ বক্সের সামনে থেকে সানির বস্তাবন্দী লাশ পাওয়া যায়।

পরে সানির মাকে দিয়ে চান মিয়া তাঁর প্রতিপক্ষ ল্যাংড়া রাসেল, পিন্টু, জুয়েল, কালাম, পায়েল ও হীরার বিরুদ্ধে পল্টন থানায় হত্যা মামলা করান। তাঁদের মধ্যে পল্টন থানার পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করলেও তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সম্পর্কে কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ। পরে মামলার তদন্তভার পায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি-মতিঝিল)। সানি তার মায়ের সঙ্গে গুলিস্তান পার্কে থাকত।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা মতিঝিল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. আফসারউদ্দীন খান প্রথম আলোকে বলেন, সূত্রবিহীন এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের একপর্যায়ে শিশুটির বস্তাবন্দী লাশটি উদ্ধারের সময় করা ডিবি এক ব্যক্তির মুঠোফোনের ভিডিও পায়। সেখানে দেখা যায়, বস্তার ওপর একটি লাল রঙের গেঞ্জি পড়ে আছে। এটি হত্যাকাণ্ডের সূত্র (ক্লু) ধরে পুলিশ এগোতে থাকে। একপর্যায়ে লাল রঙের গেঞ্জিটি চান মিয়ার বলে নিশ্চিত করে শ্যালিকা ঝরনা বেগম। আজ ভোরে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি সানিকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ল্যাংড়া রাসেল গংদের সঙ্গে শত্রুতা ছিল। তাদের ফাঁসাতে তিনি শিশু সানিকে হত্যার পরিকল্পনা নেন।

আজ রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে চান মিয়া ডিবি কর্মকর্তাদের বলেন, ঘটনার আগের দিন ২০১৯ সালের ৮ নভেম্বর রাতে চান মিয়া শিশু সানিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে সানিকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। কিছুক্ষণ পর সানিকে গুলিস্তান পার্ক এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে পাশবিক যৌন নির্যাতন করা হয়। সানি নড়াচাড়া করলে তার গলা টিপে ধরলে মৃত্যু হয়। পরে চান মিয়া নিজেই লাশ বস্তাবন্দী করে রাতে পুলিশ বক্সের সামনে ফেলে যান। পরের দিন লাশ পাওয়ার বিষয়ে সানির মাকে খবর দেওয়ার মিথ্যা নাটক করেন চান মিয়া।

ডিবির প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার আরও বলেন, গ্রেপ্তার চান মিয়া চুরি-ছিনতাই করতেন। এসব কাজ করতে গিয়ে ল্যাংড়া রাসেল গ্রুপের সঙ্গে তাঁর শত্রুতা তৈরি হয়। এই শত্রুতার জেরে ল্যাংড়া রাসেলকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য তিনি শ্যালিকার ছেলে সানিকে হত্যা করেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন