হবিগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় লিটন মিয়া (১৫) নামের এক কিশোর মারা গেছে। সদর উপজেলার চারিনাও গ্রামে গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, জমির মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক সংঘর্ষে আহত চারিনাও গ্রামের পঞ্চায়েত নেতা জহুর আলী (৭০) ৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে রাজিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবদুল আওয়াল হবিগঞ্জ সদর থানায় ৯৯ জনের নামে মামলা করেন। এ মামলার ৬২ নম্বর আসামি ছিল লিটন মিয়া। সম্প্রতি সে জামিন পায়। বিষয়টি মানতে পারেননি আওয়ালের লোকজন। আওয়াল ও তাঁর আত্মীয়স্বজন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে লিটনকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে ব্যাপক মারধর করে থানায় আসামি আটকের খবর দেন। তখন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র হাজরার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতেও লিটনকে মারধর করা হয়। আহত লিটনকে সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। রাত ১১টার দিকে সে মারা যায়।
লিটনের বাবা তাউছ মিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে পুলিশের সামনেই নির্যাতন করেন আবদুল আওয়াল ও তাঁর ভাই জামিল মিয়া। গ্রামের বাসিন্দা আফরোজ মিয়া বলেন, জহুর আলী মারা যাওয়ার পর তাঁর পক্ষের লোকজন আসামিদের ঘরবাড়ি ভেঙে তছনছ করেন ও জমির ফসল লুটে নেন। তাঁদের অত্যাচারে ৬১টি পরিবার এখন গ্রামছাড়া। এ বিষয়ে একাধিক মামলা হলেও পুলিশ শুরু থেকে পক্ষপাত করে আসছে।
তবে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন বলেন, আসামি ধরতে পুলিশ চারিনাও গ্রামে যায়। দুজন আসামি ধরে থানায় ফিরছিল তারা। মাঝপথে আসার পর জহুর আলী হত্যা মামলার বাদী আওয়াল ফোন করে জানান, তাঁরা আরেক আসামি আটক করেছেন। পুলিশ আবার ওই গ্রামে গিয়ে আহত অবস্থায় লিটনকে গ্রহণ করে। হাসপাতালে ভর্তির পর সে মারা যায়।
‘হবিগঞ্জে ৬১টি পরিবারকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ’ শিরোনামে গত ২৮ এপ্রিল প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এ প্রতিবেদনে উঠে আসে জহুর আলী হত্যা মামলার আসামিদের পরিবারের ওপর প্রতিপক্ষের নানা নির্যাতনের ঘটনা।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন