নাম নন্দা বাণিজ্যিক খামার। মালিক নর্থবেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেড। খামারটি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বামনদিঘী গ্রামে। খামারের একাংশে বিরাট এক সাইনবোর্ড। এতে প্রধানমন্ত্রীর ছবিসহ মোট পাঁচটি ছবি রয়েছে। লেখা রয়েছে ‘বামনদিঘী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ক্রীড়া মাঠ’। এই মাঠের জমি চাষ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন খামারের কর্মকর্তা। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।
সাইনবোর্ডের ছবিগুলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলামের। সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘স্থাপিত ১৯৮৪। শুভ উদ্বোধন: ২৭ মার্চ, ২০১৫, প্রতিষ্ঠাতা: মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ শাহরিয়ার আলম-এমপি’।
গত শুক্রবার সাইনবোর্ডের ছবি তুলতে গেলে আওয়ামী লীগের লোকজন এই প্রতিবেদককে ঘিরে ধরেন। এ সময় বামনদিঘী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহাদত হোসেন কথা বলতে শুরু করেন। সেখানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তজিরুল ইসলাম, শলুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতাহার আলীসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৩০-৩৫ জন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের ভাষ্য, গত জানুয়ারি মাসে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের নামে বামনদিঘী গ্রামে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট ছাড়া হয়। নর্থবেঙ্গল সুগার মিল কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়ে নন্দা বাণিজ্যিক খামারের একাংশে এই খেলা শুরু করা হয়। ২৭ মার্চ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন। তিনি মঞ্চে ঘোষণা দেন, খামারের এই জমিতেই খেলার মাঠ হবে। এ জন্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যত দিন লাগে তত দিন এই খামারের জমির যে রাজস্ব হয়, তা তিনি নিজের পকেট থেকে চিনিকলকে দেবেন। খামারের জমিটা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহারের অনুমতির জন্য মন্ত্রীর সুপারিশসহ এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এখনো অনুমতি পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে নেতা-কর্মীরা আবার ওই মাঠে ‘খাসিকাপ’ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ছাড়েন। গত ২১ জুন খামারের প্রধান শাহীন আলম ট্রাক্টর নিয়ে মাঠের একাংশে চাষ দেওয়া শুরু করেন। এ সময় গ্রামের লোকজন বাধা দেন। খামারের প্রধান পুলিশ ডাকেন। পুলিশের হস্তক্ষেপের পর তাঁরা চাষ দিতে থাকেন। বাধা দিলে বামনদিঘী ওয়ার্ডের সভাপতির স্ত্রী নিলুফাকে পুলিশ লাঞ্ছিত করে। খামারের লোকজন সাইনবোর্ড ও মাঠের সীমানা দিয়ে পুঁতে রাখা নিশানা তুলে নিয়ে যান। ২৪ জুন গ্রামের ১১ জনকে আসামি করে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে ভূমি কর্মকর্তা ইয়াসিন হোসেন চারঘাট থানায় মামলা করেন। মামলায় আরও ৩৫-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরে নেতা-কর্মীরা বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীকে জানান। ওই দিনই চারঘাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক এসে আবার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে, খুঁটি পুঁতে জায়গা দখল হিসেবে চিহ্নিত করে যান।
শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘খামারের ওই জমিটুকু খেলার মাঠ হিসেবে নেওয়ার জন্য আমরা শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। ওটা হবে। এলাকাবাসী জমিটা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।’ মামলার ব্যাপারে তিনি বলেন, মামলাটি তাঁরা নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা করবেন। অনুমতি পাওয়ার আগেই মাঠে ছবি টাঙানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছবি কেন টাঙাবে? ছবি তো টাঙানোর কথা নয়।’
খামারের প্রধান শাহীন (৩২) জানান, পুলিশের সামনেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী গ্রামের লোকদের ২ দশমিক ০৫ একর জমিতে খেলাধুলা করতে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁরা আরও শূন্য দশমিক ৯৫ একর জমির মুগ ও মাষকলাই নষ্ট করে দখলে নিয়েছিলেন। এই অংশে তাঁরা চাষ দিতে গিয়েছিলেন।
চারঘাট থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, পুলিশ সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কাউকে লাঞ্ছিত করেনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0