শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় মেছের আলী মুন্সি কান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মাদবর (৬৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ আদালতে ওই অভিযোগপত্র দাখিল করে।

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী,উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জলিল গোমস্তা, তাঁর ভাই আলাউদ্দিন গোমস্তা ও জামাতা দাউদ খানের সঙ্গে নুরুল ইসলাম মাদবরের স্থানীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর নুরুল ইসলাম তাঁর ভাই জসিম মাদবরকে নিয়ে শরীয়তপুর যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জলিল গোমস্তা, আলাউদ্দিন গোমস্তা ও দাউদ খানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাঁদের কুপিয়ে আহত করে। তারা নুরুল ইসলাম মাদবরের হাত-পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। খবর পেয়ে জাজিরা থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। জসিম মাদবরপঙ্গু হয়ে যান।

পরের দিন নিহত নুরুলের ছেলে মোজাম্মেল হক মাদবর ১৮ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। বাদীর সহায়তায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ গত ১ জানুয়ারি প্রধান আসামি জলিল গোমস্তাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় কুমার সাহা ৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে আভিযোগপত্র দাখিল করেন। প্রধান আসামি জলিল গোমস্তা ও তাঁর ভাই আলাউদ্দিন গোমস্তার নাম অভিযোগপত্রে নেই।

এসআই সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, হত্যাকাণ্ডে জলিল গোমস্তা ও আলাউদ্দিন গোমস্তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই তাঁদের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বাদী মোজাম্মেল হক মাদবর বলেন, ‘পুলিশ প্রভাবিত হয়ে অভিযোগপত্র থেকে জলিল ও আলাউদ্দিনের নাম বাদ দিয়েছে। আমি এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেব।’

এদিকে নুরুল ইসলাম খুন হওয়ার পর তাঁর সন্তানদের হয়রানি, মামলা প্রত্যাহারের হুমকি ও আসামিদের নাম প্রত্যাহারের জন্য টাকার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে গত ডিসেম্বরে বাদী জাজিরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া বলেন, নুরুল ইসলাম মাদবরের সঙ্গে বিরোধ ছিল দাউদ খানের। জলিল গোমস্তার আত্মীয় দাউদ। এ কারণে জলিল গোমস্তা ও আলাউদ্দিন গোমস্তাকে আসামি করা হয়েছিল। কিন্তু হত্যাকাণ্ডে তাঁদের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন