ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের প্রার্থী ও ভোটাররা। গত কয়েক দিন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সোহাগের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভোটারদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর পর থেকে তাঁদের মনে এ শঙ্কা দেখা দেয়।
অভিযোগ পেয়ে ওই ইউনিয়নে পুলিশ-বিজিবির টহল দেওয়া হলেও কাটেনি প্রার্থী-ভোটারদের মনের শঙ্কা। আজ শনিবার মোহাম্মদপুরসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার থেকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আগ্নেয়াসস্ত্রসহ অপরিচিত চার-পাঁচজন ব্যক্তি মো. সোহাগের পক্ষে ভোটের প্রচারণা চালান। তাঁরা ইউনিয়নের চায়ের দোকান, বাড়ি ও পথেঘাটে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাকডোব গ্রামের এক ভোটার বলেন, নৌকা মার্কার লোকজন অস্ত্র দেখিয়ে বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিলে কেন্দ্রে যাবেন। না হলে কষ্ট করে সেখানে যাওয়ার দরকার নাই। আমরা দুপুর ১২টার মধ্যে সব কেন্দ্রে ভোট শেষ করে দেব।’ এরপর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ভোটারদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না, এ শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে।
বানিয়াপাড়া গ্রামের ভোটার আয়শা বেগম (৪৭) বলেন, ‘লোকলা হাতত বন্দুক ধরে ভোট চাহে বেড়াছে। এমন কাণ্ড আগত দেখুনি। ভোটের দিন গন্ডগোল হবা পারে। সেলা ঝামেলায় পড়িমো কি না চিন্তা হচে।’
মাতৃগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সোলায়মান মিয়া (৬৫) বলেন, ‘গত ৫ জানুয়ারিতেও ভোট দিয়েছি। কিন্তু এবার ভোটকেন্দ্রে যেতে পারব কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। লোকজন এর আগে ভোটের সময় রাইফেল-পিস্তল দেখেনি। এবার দেখেছে। এ অবস্থা ঠিক না হলে ভোট দিতে যাই কেমন করে। আমাদের জীবনের তো মায়া আছে?’
এ নিয়ে গত বুধবার ওই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান-ই-হাবিব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অনুলিপি দেন। পরদিন প্রথম আলোসহ কয়েকটি সংবাদপত্রে এ নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার সেখানে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে। সেই থেকে ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশ-বিজিবির টহল চলছে। পুলিশ-বিজিবির টহল শুরুর পর অস্ত্রধারীরা সরে গেছে নিরাপদ জায়গায়।
এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান-ই-হাবিব গতকাল বলেন, ‘অস্ত্রধারীরা সরে থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. সোহাগের লোকজন ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে, জীবনের মায়া থাকলে অন্য মার্কার সমর্থকেরা যেন ভোট দিতে না যান। এরপরও যাঁরা যাবেন, তাঁরা সমস্যায় পড়বেন। ভোটকেন্দ্র দখলের এমন সব প্রচারণার কারণে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন। আমরা পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও তাঁদের ভয় কিছুতেই কাটানো যায়নি। নয়টির মধ্যে ছয়টি কেন্দ্র দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।’
বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ক্যাডার বাহিনী গা ঢাকা দিলেও ইউনিয়নের আশপাশেই অবস্থান করছেন। তাঁরা ভোট শুরু হওয়ার পরপরই ভোটকেন্দ্র দখল করে নেওয়ার আশঙ্কা করছি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনকে আবেদন জানানো হয়েছে।’
তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. সোহাগের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি কেন্দ্র দখল করে নয়, ভোটারের ভোটেই জয়লাভ করবেন।
পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ বলেন, ‘মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ভোট শঙ্কামুক্ত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আগে ঘটনাগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না। শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন