ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান কারাবন্দী অবস্থায় সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিতই মুঠোফোনে কথা বলতেন। আড়াই মাস আগে সালেহ আহমেদ নামে এক অনুসারীকে ফোন করেন মুফতি হান্নান। কারাগার থেকে আদালতে আনা-নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে তাঁকে (হান্নান) ছিনিয়ে নিতে নির্দেশ দেন।
তদন্ত সূত্র ও ১ মার্চ গ্রেপ্তার হওয়া হুজি সদস্য সালেহ আহমেদের দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। জবানবন্দিতে সালেহ আহমেদ বলেছেন, নির্দেশ পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী কাজ করেছেন তিনি।
৬ মার্চ গাজীপুরের টঙ্গীতে মুফতি হান্নানকে ছিনিয়ে নিতে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালানোর পাঁচ দিন আগে রাজধানীর কমলাপুর থেকে গ্রেপ্তার হন সালেহ আহমেদ। ১৪ মার্চ ঢাকার একটি আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি। সালেহ আহমেদ নারায়ণগঞ্জের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। শাহজাহানপুর থানায় হওয়া মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১ মার্চ শাহজাহানপুর থানাধীন রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালের সামনে হুজির চার-পাঁচজন সক্রিয় সদস্য গোপন বৈঠকে মিলিত হন। সেখান থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন সালেহ আহমেদ। তবে পালিয়ে যান আরও চারজন।
মুফতি হান্নানের সঙ্গে যে ফোনে কথা বলতেন, সেই মুঠোফোনটি সালেহ আহমেদের নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে জব্দ করেছে পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুফতি হান্নান যে বক্তব্যটি রেকর্ড করে সালেহ আহমেদকে পাঠান, সেটি উদ্ধার হওয়া ওই ফোনে পাওয়া গেছে।
সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা এবং এতে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় মুফতি হান্নানের ফাঁসির দণ্ড হয়েছে। যেকোনো সময় এ রায় কার্যকরে আর কোনো বাধা নেই। হান্নান বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে আছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) গফুর মিয়া বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় হান্নান মুঠোফোনে হুজির সালেহ আহমেদসহ একাধিক জঙ্গির সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতেন। তাঁকে জেল থেকে বের করতে সংগঠনের সদস্যদের নির্দেশ দেন।
অবশ্য কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হান্নান কারাগারে থাকা অবস্থায় মুঠোফোনে কারও সঙ্গে কথা বলেননি।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মুফতি হান্নানসহ তাঁর সহযোগীদের বহনকারী প্রিজন ভ্যানে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুই জঙ্গি রোববার বিকেলে গাজীপুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।
ওই দুই আসামি হলেন ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার পূর্ব পাগলী এলাকার মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে মোস্তফা কামাল (২২) ও নরসিংদীর মনোহরদী থানার কাটিকাটা উত্তর এলাকার মো. রতন মিয়ার ছেলে মিনহাজুল ইসলাম (২০)। তাঁরা প্রিজন
ভ্যানে হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা এবং আসামিদের ছিনিয়ে নিতেই ওই হামালার ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক রবিউল ইসলাম বলেন, জবানবন্দি শেষে আসামিদের গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন