default-image

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় কিশোরীদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত সেই নওরোজ হিরা সিকদারকে (৫০) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ওসি বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নওরোজ এবং এসব অপকর্মে সহায়তাকারী এক নারী গোপনে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক এস এম মাহফুজ আলম তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নওরোজকে রিমান্ডে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র ছাত্রীদের বেতনসহ বিভিন্ন ফি মওকুফ এবং পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে মুঠোফোনে এর ভিডিও চিত্র ধারণ করতেন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ছাত্রীদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেন।

গত ২৮ অক্টোবর ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নওরোজের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। নওরোজ ও ভুক্তভোগীর বাড়ি উপজেলার একই গ্রামে। নওরোজ স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য। জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলেও স্থানীয়দের কাছে নিজের পরিচয় দিতেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল। এ জন্য তাদের পক্ষে মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। তখন নওরোজের দূরসম্পর্কের এক ভাতিজি (মামলার আসামি) ওই ছাত্রীকে নওরোজের কাছে বিনা বেতনে পড়ার প্রস্তাব দেন। ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর সকালে নওরোজ হিরার ভাতিজি ওই ছাত্রীকে নওরোজের বাড়িতে নিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

স্ত্রীকে তালাক দেওয়ায় নওরোজ বাড়িতে একাই থাকতেন। ভাতিজিকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন নওরোজ। এ সময় মুঠোফোনে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন। পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরে আবার শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন। লজ্জা ও ভয়ে এত দিন ওই ছাত্রী বিষয়টি গোপন রাখে।

সম্প্রতি নওরোজের সঙ্গে ওই ছাত্রীসহ ১১ জন কিশোরী ও নারীর আপত্তিকর ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন।

নওরোজের গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নওরোজ নিজেকে উচ্চশিক্ষিত ও সাংবাদিক বলে পরিচয় দিতেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা বলেও পরিচয় দিতেন। উপজেলার জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গেও তাঁর সখ্য ছিল। এই সুবাদে তিনি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং আরেকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য হন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র ছাত্রীদের বেতনসহ বিভিন্ন ফি মওকুফ এবং পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে মুঠোফোনে এর ভিডিও চিত্র ধারণ করতেন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ছাত্রীদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেন। সম্প্রতি এসব ভিডিও ফাঁস হয়ে গেলে এলাকায় তোলপাড় হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0