জয়দেবপুর-যমুনা সেতু রেললাইনে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দরা এলাকা থেকে নাশকতাকারী সন্দেহে এক যুবককে আটক করেছেন আনসার সদস্যরা। ওই ঘটনায় চার আনসার সদস্যকে গতকাল রোববার পুরস্কৃত করেছে জেলা প্রশাসন। তবে আটক যুবকের পরিবারের দাবি, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
ওই যুবকের নাম জাহাঙ্গীর ওরফে মিজান (২০)। তিনি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার গাজীপুর পূর্ব চা-বাগান এলাকার ফরিদ আহম্মেদের ছেলে। তিনি পূর্ব চান্দরা এলাকার ব্লু ফ্যাশন কারখানায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।
কালিয়াকৈর উপজেলা আনসার কর্মকর্তা গাজী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নাশকতা রোধে সরকারের পক্ষ থেকে রেললাইন পাহারায় আনসার সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অফিসের কয়েকজন সদস্য দায়িত্ব পান জয়দেবপুর-যমুনা সেতু রেললাইনে। শনিবার বিকেলে আনসার সদস্য আহম্মাদ হাবিব, জামাল হোসেন, মো. রইচ ও মো. খলিল কালিয়াকৈরের পূর্ব চান্দরা মাটিকাটা রেলক্রসিং এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় সাত-আটজন যুবক সেখানে রেললাইনের ফিশপ্লেট খোলার চেষ্টা করলে তাঁদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে একজনকে আটক করা গেলেও অন্যরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয় জাহাঙ্গীরকে।
এ ঘটনায় গাজীপুর জেলা প্রশাসন ওই চার আনসার সদস্যকে পাঁচ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছে। গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুর রহমান তাঁদের হাতে এ টাকা তুলে দেন।
জাহাঙ্গীরের ভাই আলমগীর হোসেন দাবি করেন, ছুটির দিন থাকায় তাঁর ভাই রেললাইনের পাশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এ সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাঁকে রেললাইন দিয়ে হেঁটে যেতে নিষেধ করেন। কিন্তু জাহাঙ্গীর তাঁদের কথা না শুনে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটতে থাকেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে মারধর করেন আনসার সদস্যরা। পরে নাশকতাকারী হিসেবে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
একই তথ্য দেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীও। মুদি দোকানি আমিনুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম বলেন, নিষেধ করার পরও জাহাঙ্গীর রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আনসার সদস্যরা তাঁকে মারধর করেন ও আটক করে নিয়ে যান।
আনসার কর্মকর্তা গাজী আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, রেললাইনে ফিশপ্লেট খোলার সময় ওই যুবককে আটক করা হয়। তবে ফিশপ্লেট খোলার কোনো যন্ত্র তাঁর কাছে পাওয়া গেছে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, এ রকম কিছু পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসক নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ইউএনওকে দিয়ে তদন্ত করা হবে। জয়দেবপুর রেলওয়ে ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দাদন মিয়া জানান, জাহাঙ্গীরকে কমলাপুর রেলওয়ে থানায় পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন