ফেনীতে যুবদলের এক নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলার জন্য যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের দায়ী করেছে যুবদল। তবে যুবলীগের দাবি, যুবদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের দেলিয়াই বাজারে বিএনপির এক সমর্থকের লেপ-তোশকের দোকানের মালামাল ও একটি মোটরসাইকেল লুট করেছে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের মধুয়াই গ্রামে উপজেলা যুবদলের কার্যকরী কমিটির সদস্য বাহারউদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। বাহারউদ্দিনের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, বিকেলে ২০-২৫ জন মুখোশধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাঁর ছেলে বাহারকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাঁকে (শাহজাহান) ও তাঁর ভাতিজা সাইফুল ইসলামকেও গুলি করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁর স্ত্রীসহ দুজনকে পিটিয়ে আহত করে। এ ছাড়া দুর্বৃত্তরা ঘরের মালামাল ভাঙচুর করে।
গুলিবিদ্ধ বাহারউদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং শাহজাহান ও সাইফুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্যমতে, গত শনিবার ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর সৌজন্যে নির্মিত একটি তোরণ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর জের ধরে গতকালের ঘটনা ঘটতে পারে।
ফেনী সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম ওরফে মামুনের অভিযোগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন।
তবে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শুসেন চন্দ্র শীল ঘটনার জন্য যুবদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেছেন।
ফেনী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব মোরশেদ বলেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের দেলিয়াই বাজারে বিএনপির এক সমর্থকের লেপ-তোশকের দোকানের মালামাল ও একটি মোটরসাইকেল লুট করেছে সন্ত্রাসীরা।
কাউছার বেডিং স্টোরের মালিক মো. কাউছার প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যান। সাড়ে ১২টার দিকে লক্ষ্মীপুরের সন্ত্রাসী মামুন বাহিনীর ১০-১২ জন সদস্য একটি পিকআপ ভ্যান ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে বাজারে আসে। এরপর তারা তাঁর দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ৩০টি তোশক, ১০টি লেপ, একটি মোটরসাইকেল এবং দোকানের অন্যান্য মাল একটি পিকআপ ভ্যানে তুলে লক্ষ্মীপুরের দিকে চলে যায়। তিনি বলেন, তিনি বিএনপির সমর্থক। অন্যদিকে মামুন বাহিনীর সদস্যরা ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক।
কাউছারের অভিযোগ, ঘটনার পরই তিনি বিষয়টি চাটখিল থানার পুলিশকে জানিয়েছেন। কিন্তু সন্ধ্যা সোয়া সাতটা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি।
তবে চাটখিল থানার ওসি মো. নাছিম উদ্দিন বলেন, দেলিয়াই বাজারে দোকানের মালামাল লুটের কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই। কেউ থানায় অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন