মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিকসহ প্রায় সব পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করতেন আসাদুজ্জামান নূর। তিনি বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিতেন, টাকা পেলে পরীক্ষার্থীদের ফেসবুকের ইনবক্সে প্রশ্ন দিতেন। এভাবেই লাখপতি হয়ে গেছেন ২২ বছরের এই যুবক। ২০১৪ সালে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রতারণার মাধ্যমে তিনি আয় করেছেন ১০ লাখ টাকার মতো।

আজ দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ দাবি করেন। এ সময় ডিবির উপকমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

চলতি এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার ২৬২ নম্বর মোল্লারটেক থেকে গতকাল বুধবার রাতে আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল ফোন সেট, পেন ড্রাইভ, ইন্টারনেট মডেম উদ্ধার করা হয়। অবশ্য ডিবি পুলিশের দাবি, আসাদুজ্জামানের কাছে ল্যাপটপ থেকে পাওয়া এসএসসির বিভিন্ন বিষষের প্রশ্নপত্র ‘ভুয়া’।

মনিরুল ইসলামের দাবি, ফেসবুকে রিয়াজুল ইসলাম নামে ভুয়া আইডি ব্যবহার করতেন আসাদুজ্জামান। পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা ইনবক্সে প্রশ্নপত্র চাইলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিতেন তিনি। টাকা পাওয়ার পর শিক্ষার্থী অথবা অভিভাবকের ফেসবুকের ইনবক্সে প্রশ্নপত্র দিতেন তিনি।

ডিবির উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি তিতুমীর কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। চলতি এসএসসি পরীক্ষার সময় ‘ভুয়া’ প্রশ্নপত্র ফাঁস করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। তাঁর সঙ্গে শিক্ষাবোর্ডের কারও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি রিমান্ডে নিলে জানা যাবে বলেও মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন