বিশাল মাঠের এক পাশে শহীদ মিনার। মাঠের পশ্চিম পাশে সারিবদ্ধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি বইয়ের স্টল। বসেছে প্রসাধনসামগ্রী ও শিশুদের খেলনার স্টলও। মাঠের মূল ফটক দিয়ে ঢুকতেই দুপাশে দুটি জুতার দোকান। এ দৃশ্য মানিকগঞ্জের বইমেলার।
জেলা প্রশাসন তিন দিনব্যাপী এ বইমেলার আয়োজন করে। তবে বইমেলায় জুতার স্টল দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে সংস্কৃতিকর্মী দীপক ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বইমেলায় জুতার স্টল দেওয়া বেমানান। বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়।’
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে (বিজয় মেলা মাঠ ) ২০ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী বইমেলার আয়োজন করা হয়। গত শুক্রবার বিকেলে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন এ বইমেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস, পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম মহীউদ্দিন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
বইমেলায় ১৮টি বইয়ের স্টল, প্রসাধনসামগ্রী, শিশুদের খেলনাসহ অন্যান্য সামগ্রীর ১২টি স্টল দেওয়া হয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে রেলগাড়ি।
বিষয়টি সকালে জানার পর জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস জুতার দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এরপর স্টলের সামনে কাপড় দিয়ে কোনো রকমে ঢেকে দেওয়া হয়। এর পরও বিক্রি করা হয় জুতা।
ঢাকার দুই ব্যবসায়ী জুতার স্টল দুটি দিয়েছেন। তাঁদের একজন রফিক উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই জুতার স্টল দেওয়া হয়েছে। এর জন্য টাকাও দেওয়া হয়েছে।’ অপর জুতার স্টলের কর্মচারী আবদুল আলিম জানান, টাকা দিয়েই জুতার স্টল দেওয়া হয়েছে। কাকে কত দিয়েছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জুতার স্টলের জন্য জেলা প্রশাসনকে চার হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে আবদুর রহমান নিশ্চিত করেন। তবে তিনি দাবি করেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশের পর জুতার স্টল দুটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, জুতার স্টলগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন