বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার বুথার এলাকায় বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশের দাবি, নিহত ব্যক্তিরা নাশকতা মামলার আসামি ছিলেন। পরিবারের দাবি, তাঁরা নিরীহ। পুলিশ তাঁদের হত্যা করেছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার নগরবাড়ি গ্রামের কবির হোসেন মোল্লা (৩৫) ও টিপু সুলতান (৩২)।

পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি পেট্রলবোমা, দুটি রামদা, দুটি চাপাতি, একটি বল্লম ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলামের ভাষ্য, বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া মামলার পলাতক আসামি ছিলেন কবির ও টিপু। ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহায়তায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল দিবাগত রাত দুইটার দিকে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে বের হয় পুলিশ। তাঁদের সহযোগীরা বুথার এলাকায় বাইপাস সড়কে আগুন জ্বেলে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পরে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে কবির ও টিপু গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় আগৈলঝাড়া পুলিশের দুই সদস্য মো. মোস্তাফিজ ও রাজু আহম্মেদ আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পেট্রলবোমা ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসির দাবি, নিহত ব্যক্তিরা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতা ছিলেন। আজ শনিবার সকালে তাঁদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত নন। তা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁদের হত্যা করেছে।

আজ নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার দুটির সদস্যদের মধ্যে মাতম চলছে।

টিপুর মা রিজিয়া বেগম (৬৫) কাঁদতে কাঁদতে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর ছেলে কোনো সন্ত্রাসী ছিলেন না। কোনো খারাপ কাজে জড়িত ছিলেন না। বিএনপি করার অপরাধে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

টিপুর স্ত্রী সোমা আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘দুই মাইয়া নিয়া মুই অ্যাহন কার কাছে যামু। ওদের কে দেখবে? ’

নিহত টিপুর প্রতিবেশী ও নগরবাড়ি গ্রামের অধিবাসী মজিবুর রহমান হাওলাদার, হাবিবুর রহমান মোল্লাসহ কয়েকজনের ভাষ্য, টিপু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী ছিলেন না।

টিপুর বড় ভাই খলিলুর রহমান ও মাসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের মদদে ৯ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়ায় একটি গাড়ি পোড়ানোর মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে হত্যা করেছে পুলিশ।

নিহত কবিরের বাড়িতে গিয়েও শোকার্ত পরিবেশ দেখা যায়। বাবা আবুল হোসেন মোল্লার (৭৫) ভাষ্য, তাঁর ছেলে ও ছেলের স্ত্রী ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তাঁর অসুস্থতার খবর পেয়ে ছেলে বাড়ি আসে। তাঁর নিরপরাধ ছেলেকে পুলিশ হত্যা করেছে।

জেলা (উত্তর) বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ জেবাহউদ্দিন ফরহাদ বলেন, ‘নিহতদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। কিন্তু পুলিশ পেট্রলবোমা হামলার মামলায় জড়িয়ে তাঁদের ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করেছে। ’

অগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম আফজাল হোসেন বলেন, দলে নিহত ব্যক্তিদের কোনো পদ ছিল না। তাঁরা সমর্থক। বন্দুকযুদ্ধের নামে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন