বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবদল ও জাসাসের দুই নেতা নিহত হয়েছেন। তবে পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে পুলিশ। 
নিহত ব্যক্তিরা হলেন আগৈলঝাড়ার গৈলা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু সুলতান ও আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন মোল্লা। বিএনপির একটি সূত্র টিপুকে গৈলা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলেও দাবি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ৯ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়ায় পিকআপ ভ্যানে পেট্রলবোমা হামলা মামলার ১ নম্বর আসামি কবির। আর টিপু একই মামলার ৩ নম্বর আসামি। দুজনেরই বাড়ি আগৈলঝাড়ার নগরবাড়ি গ্রামে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, পেট্রলবোমা হামলার আসামি টিপু ও কবিরকে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের আগৈলঝাড়ায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ওসির ভাষ্যমতে, টিপু ও কবিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাঁদের নিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে অভিযানে নামে পুলিশ। বাকাল ইউনিয়নের বাইপাস সড়কের বুথার এলাকায় পৌঁছালে পিকআপ ভ্যানে পেট্রলবোমা হামলা মামলার অন্য আসামিরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ও গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় টিপু ও কবির পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বন্দুকযুদ্ধের মধ্যে পড়ে নিহত হন। অন্য আসামিরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি পেট্রলবোমা ও বেশ কয়েকটি দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে তাঁদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। ওসির দাবি, বন্দুকযুদ্ধের সময় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।
গতকাল টিপু সুলতানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মা রিজিয়া বেগম (৬৫) বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। একপর্যায়ে বিলাপ করে বলেন, ‘আমার ছেলে সন্ত্রাসী নয়, কোনো খারাপ কাজে জড়িত ছিল না। বিএনপি করার অপরাধে আমার বাবারে হত্যা করল।’ টিপুর বড় ভাই খলিলুর রহমানের দাবি, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে টিপুকে হত্যা করেছে।
কবিরের বাড়িতে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। কান্নাকাটি করছেন স্বজনেরা। কবিরের বাবা আবুল হোসেন মোল্লা জানান, কবির ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তাঁর (বাবা) অসুস্থতার খবর পেয়ে কয়েক দিন আগে তিনি বাড়ি ফেরেন। আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, ‘আমার নিরপরাধ সন্তানকে ওরা হত্যা করেছে।’
বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ দাবি করেন, ছাত্রদলের নেতা টিপু এবং জাসাসের নেতা কবিরের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। পুলিশ পেট্রলবোমা হামলার মামলায় জড়িয়ে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে তাঁদের হত্যা করেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল জেলা (উত্তর) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, টিপু গৈলা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। আর কবির জাসাসের নেতা। দুজনকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন