বশেমুরবিপ্রবির ৪৯ কম্পিউটার চুরি, ৩৪টি ঢাকায় উদ্ধার

বিজ্ঞাপন
default-image

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) থেকে চুরি যাওয়া ৪৯টি কম্পিউটারের মধ্যে ৩৪টি উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার মহাখালী এলাকার জিসার ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি আবাসিক হোটেল থেকে এসব কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়।
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন ময়মনসিংহ জেলার চোরখালী গ্রামের মইজউদ্দিনের ছেলে হুমায়ূন (৩৫) ও কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার ইদারচর গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে দুলাল (২৫)।

গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, গতকাল দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার মহাখালীর জিসার ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে বনানী থানা ও গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ। ওই হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ৩৪টি কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া কম্পিউটারসহ গ্রেপ্তার দুজনকে গোপালগঞ্জে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন এসআই।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাচ্চু শরিফের ভাই পলাশ শরিফ ও একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ ঘটনার পর থেকে পলাশ শরিফ পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার চুরি ঘটনায় তদন্ত চলমান। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
ঈদের ছুটির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পেছন দিকের জানালা ভেঙে ৪৯টি কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটে। প্রথমে ৯১টি কম্পিউটার চুরি যাওয়ার কথা বলা হলেও পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায় ৪৯টি চুরি গেছে। এ ঘটনায় ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক নূরউদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেন।
চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ১৯ নিরাপত্তা প্রহরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান আবদুল কুদ্দুস মিয়া বলেছেন, ‘তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনই কিছু বলতে চাইছি না।’
এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুই দফায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৯৭টি কম্পিউটার চুরি হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন