কেরানীগঞ্জে বাক্‌প্রতিবন্ধী নারীকে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে চালক ও তাঁর সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। অন্যদিকে পুলিশ খুঁজে বের করেছে ওই নারীকে। এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন ওই নারীর মা।

default-image

র‌্যাব ও পুলিশ এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চালক মো. নাহিদ (৪০) ও তাঁর সহকারী মো. সবুজ। আজ আদালতে ওই নারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দীর কাদির প্রথম আলোকে বলেন, ওই নারীকে তাঁরা আজ মঙ্গলবার ভোরের দিকে নবাবগঞ্জ থেকে খুঁজে বের করেন। তাঁর নাম শিল্পী ওরফে মিষ্টি। তিনি তাঁর মা সমর্ত বানুর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরে থাকেন। ঘটনার দিন গত রোববার তিনি এন মল্লিক বাসে করে কামরাঙ্গীরচর থেকে বসিলা হয়ে নবাবগঞ্জে যাচ্ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

শাহাবুদ্দীর কাদির বলেন, পুলিশের কাছে ঘটনার বিবরণ লিখে জানিয়েছেন শিল্পী। তবু আইনগত বিষয় বিবেচনায় তাঁরা শিল্পীর মা সমর্ত বানুকে থানায় নিয়ে আসেন। মা-ই পরে মামলাটি করেন। এই মামলায় বাসচালক ও তাঁর সহকারীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। শিল্পীরা অত্যন্ত দরিদ্র। তাঁর একটি প্রতিবন্ধী কার্ড রয়েছে। বাস থেকে ফেলে দেওয়ায় তিনি মুখমণ্ডল, হাত ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন।

default-image


এদিকে আজ কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, অভিযুক্ত নাহিদ ও সবুজকে সোমবার দিবাগত রাত ১টা ২২ মিনিটে কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বর কুচিয়ামারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১০। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দুজন দায় স্বীকার করেছেন। গাড়িচালকের নির্দেশে তাঁর সহকারী ওই নারীকে ‘ছুড়ে’ ফেলেছিলেন। তিনি বলেন, এই নারীকে ফেলে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। র‌্যাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারি করে থাকে। বিষয়টি নজরে পড়ার পর থেকেই র‌্যাব কাজ করতে শুরু করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, রোববার সকাল পৌনে ৯টার দিকে এন মল্লিক নামের একটি বাস থেকে বোরকা পরা এক নারীকে ধাক্কা মেরে ফেলা হয়। মাটিতে পড়ে ওই নারী অস্ফুট স্বরে গোঙাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজন গিয়ে তাঁকে মাটি থেকে তোলেন। ভিডিও চিত্রেই দেখা যায়, গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো ব-১৩-১৫২১। এন মল্লিক বাসটি গুলিস্তান-নবাবগঞ্জ রুটে চলাচল করে।
সামর্ত বানু বলেন, তাঁরা কামরাঙ্গীরচর থানার জাউলাহাটি এলাকার মেম্বারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার মোল্লাকান্দি গ্রামে। শিল্পী দম্পতির ঘরে দুই মেয়েসন্তান রয়েছে।

default-image

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, বাক্‌প্রতিবন্ধী শিল্পীকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। আজ বিকেলে ঢাকা জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে শিল্পীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

default-image


এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে নবাবগঞ্জে ছাত্র-জনতার ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। আজ দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাসে যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নবাবগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক এলাকা প্রদক্ষিণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন