‘বাবার আদর পেল না চৈতি আর ইলা। ফোনে কথা বলার সময় বাবার কাছে দুই মেয়ের দাবি ছিল, “বাবা আমাগো আদর কইরা দাও।” বাবার উত্তর ছিল, “বরিশাল থেকে ফিরে এসে তোমাদের প্রাণভরে আদর করে দিব।” তখন কি কেউ জানত, তিনি আর ফিরবেন না স্ত্রী-সন্তানদের কাছে!’
গতকাল শনিবার দুপুরে বরিশালের গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে শুক্রবার দিবাগত ভোররাতে দুর্বৃত্তদের পেট্রলবোমা হামলায় নিহত ট্রাকচালক ইজায়েদুল মিয়ার ছোট ভাই লিটন মিয়া (৩২)। ওই হামলায় ট্রাকচালকের শ্বশুর ও চালকের এক সহকারীও নিহত হন।
লিটন মিয়া জানান, তাঁদের বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলায়। তাঁরা পাঁচ ভাই। ইজায়েদুল ছিলেন তৃতীয়। ভাইয়ের স্ত্রী রিতা বেগম গৃহিণী। তাঁদের বড় মেয়ে চৈতি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আর ইলার বয়স তিন বছর।
রাজনীতির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিটন বলেন, ‘কে নিবে এই অবোধ দুই শিশুর দায়িত্ব?’ দুই নেত্রীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাঁরা কি পারবেন আমার ভাইকে আমাদের কাছে এবং দুই শিশুর কাছে তাদের বাবাকে ফিরিয়ে দিতে?’
ইজায়েদুলের আরেক ভাই সাইদুল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কী অপরাধ করেছিল আমার ভাই?’ বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘আমরা নিষেধ করতাম, হরতাল-অবরোধের মধ্যে গাড়ি চালানোর দরকার নাই। তিনি কোনো কথা শুনতেন না। শুধু বলতেন, “আয় না করলে কী দিয়ে সন্তানদের মানুষ করব, কি দিয়ে সংসার চালাব?” ওরে ভাই, এখন কে আয় করবে, এখন কে সংসার চালাবে?’
দুই ভাইয়ের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। হাসপাতালে আসা অনেকের চোখে তখন পানি। সেখানেই কথা হয় ইজায়েদুলের সহকারী মুন্নু বিশ্বাসের ভগ্নিপতি কাজী সোহেলের সঙ্গে। পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়ে মুন্নাও মারা গেছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাজী সোহেল জানান, মুন্নুর দুই ছেলে পাপ্পু বিশ্বাস ও সাদি বিশ্বাস পিতৃহারা হয়ে গেল। তিনি বলেন, ‘আমরা এই রাজনীতি চাই না, আমরা গরিব মানুষ পেটের দায়ে রাস্তায় বাইর হই। আমাদের গরিবদের কে দেখবে? এই মানুষ হত্যা বন্ধ করেন।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন