default-image

বরগুনার বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া  স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেল সিকদারের নির্বাচনী কার্যালয় থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর ককটেল হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাসহ আট নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আজ বুধবার বেলা একটার দিকে উপজেলার সোনাখালী বাজারের বামনা-পাথরঘাটা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ওই ভবন থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এ ছাড়া এ হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ২০ জনকে আটক করে।

ককটেল হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সাব্বির তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক কৃষ্ণকান্ত কর্মকার, মানিক কুমার পঙ্কজ, ছাত্রলীগের নেতা হৃদয় দাশ, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি  রাজিব হোসেন আব্দুল্লাহ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোর্শেদ শাহরিয়ার গোলদার ও সংবাদকর্মী ফয়সাল সিকদার।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানান, বুধবার বেলা ১টায়  দক্ষিণ আমতলী গ্রামে রহিম হাওলাদারের বাড়ির সামনে ককটেল নিক্ষেপ করার খবর পেয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে যান। সেখান থেকে ফেরার সময় সোনাখালী বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল সিকদারের নির্বাচনী কার্যালয়ের দোতলা থেকে ৭-৮টি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে হৃদয় দাশ (২০) নামে ছাত্রলীগের এক নেতার ডান হাত গুরুতর জখম হয়। এর পর থেমে থেমে আরও কয়েক দফায় ওই ভবন থেকে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে আরও আটজন আহত হন।

বিজ্ঞাপন

বামনা সদর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমার নেতা-কর্মীদের ওপর ককটেল নিক্ষেপের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে হতবাক হয়ে গেছি। আমাকে লক্ষ্য করেও বেশ কয়েকবার ককটেল ছোড়া হয়। আমি এই ঘটনার বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে বামনা থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ওই নির্বাচনী কার্যালয় থেকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (ঘোড়া প্রতীকের) সোহেল সিকদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী (মোটরসাইকেল প্রতীক) তরিকুজ্জামান সোহাগসহ ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন শান্ত। আমরা অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, চারটি ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য উপজেলা শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব প্রার্থী সমান অধিকার পাবেন। কোনো বাড়তি সুযোগ-সুবিধা সুযোগ দেওয়া হবে না।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন