ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ইচ্ছেমতো ঢুকে দগ্ধ রোগীদের ছবি তোলা নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে বার্ন ইউনিট কর্তৃপক্ষ তাদের অনুমতি নিয়ে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছে।
একজন আলোকচিত্রী হাসপাতালে ঢুকে একজন দগ্ধ ব্যক্তিকে মডেলের মতো বিশেষ ভঙ্গিমায় দাঁড় করিয়ে ছবি তুলছেন—এ রকম একটি ছবি অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। এমনকি কয়েক দিন আগে সেখানে দগ্ধ রোগীদের নিয়ে একটি মিউজিক ভিডিওর শুটিং হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
প্রথম আলোসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, দগ্ধ এক ব্যক্তি তাঁর ব্যান্ডেজে মোড়া দুই হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর পেছনে কালো কাপড়ের পর্দা লাগানো। আর আহত ব্যক্তিটির ছবি তুলছেন আলোকচিত্রী সাইফুল হক। তিনি মূলত স্থিরচিত্রের মাধ্যমে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে খ্যাতি পেয়েছেন। ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, ওয়ার্ল্ড প্রেসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারও জিতেছেন। গতকাল তিনি বিবিসিকে বলেছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ন ইউনিটে ছবি তুলছেন। তিনি রোগীদের বিরক্ত না করে তাঁদের অনুমতি নিয়েই কাজ করেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে কালো কাপড় ব্যবহার করার কারণ শৈল্পিক।
পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিটিতে আরও দেখা যায়, আশপাশের রোগীদের ছবি তুলতে ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। সাইফুল হক বিবিসিকে বলেন, তিনি যখন ছবি তুলছিলেন, তাঁর কাছাকাছি তখন আরও অন্তত ২০ জন আলোকচিত্রী ও ভিডিও ক্যামেরাম্যান সেখানে ছিলেন। তাঁর ছবিটিও ওই আলোকচিত্রীদের কেউ তুলেছেন। তাঁদের কারও পরনেই অ্যাপ্রোন বা সংক্রমণরোধী কোনো পোশাক ছিল না।
বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল বলেন, এভাবে ছবি তোলার ব্যাপারটা অমানবিক। ব্যস্ততার কারণে তাঁরা সব সময় খেয়াল রাখতে পারেন না। রোগীদের চাপের কারণে অনেক সময় নিয়মকানুন পুরোপুরি মানা সম্ভব হয় না। আর সেই সুযোগে ক্যামেরা নিয়ে অনেকে রোগীদের কাছে যাচ্ছেন। তাঁরা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন এবং বলছেন, অ্যাসাইনমেন্ট আছে।
বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা সামন্ত লাল সেন বলেন, রোগীর এ অবস্থায় শুটিং করতে যাওয়া কোনোভাবেই বিবেকসম্পন্ন মানুষের কাজ হতে পারে না। কেউ অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করছেন না। কিন্তু মিডিয়ার লোকজনের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধও করে দেওয়া যাচ্ছে না। সপ্তাহের দুটি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনের জন্য। বাইরের লোকজনের প্রবেশ রোগীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ, এতে পোড়া রোগীদের শরীরে নানা ধরনের সংক্রমণ হতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট গতকাল সংবাদমাধ্যমগুলোয় একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কিছুদিন ধরে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নামে কিছু আলোকচিত্র সাংবাদিক রোগীদের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করছেন। সরকারি হাসপাতালের ভেতরে রোগীর আলোকচিত্র ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। তার পরও তাঁরা তা না করে মাঝেমধ্যে এমন ছবি তুলছেন বা তথ্য প্রকাশ করছেন, যা সবার জন্য বিব্রতকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন