বালু ছোড়া নিয়ে সংঘর্ষ, শত শত মানুষের সামনে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা

বিজ্ঞাপন
default-image

নরসিংদী শহরের মেঘনা নদীতে ঈদের আনন্দ উদ্‌যাপন করতে নৌকাভ্রমণের আয়োজন করেছিল দুই দল কিশোর-তরুণ। পাশাপাশি ওই দুই নৌকায় সাউন্ডবক্সে উচ্চ স্বরে গান বাজার পাশাপাশি চলছিল তাদের আনন্দ উদ্‌যাপন। পরে বালু ছোড়ার মতো সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। তখন শত শত মানুষের সামনে এক কিশোরের পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নরসিংদী শহরের শেখ হাসিনা সেতুর নিচে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই কিশোরের নাম ফারহান আহমেদ ওরফে অনিক (১৫)। সে শহরের সাটিরপাড়া এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার ছেলে এবং সাটিরপাড়া কে কে ইনস্টিটিউটের দশম শ্রেণির ছাত্র। তাদের বাড়ি সদর উপজেলার চরাঞ্চল কালাই গোবিন্দপুর গ্রামে।

সদর উপজেলার চরাঞ্চলের সঙ্গে নরসিংদী শহরের সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে শেখ হাসিনা সেতুর মাধ্যমে। প্রতিদিন শত শত মানুষ ঘুরতে এই সেতুতে যান। কিশোরকে যখন পিটিয়ে হত্যা করা হয়, তখন শত শত মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় লোকজন ও নিহত কিশোরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শেখ হাসিনা সেতুর নিচে (চরাঞ্চল অংশে) পাশাপাশি দুটি নৌকায় দুই দল কিশোর-তরুণ অবস্থান করছিল। দুই নৌকাতেই সাউন্ডবক্সে উচ্চ স্বরে গান বাজছিল। কিছুক্ষণ পরই বালু ছোড়াছুড়ি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে নৌকার পাটাতনের কাঠ দিয়ে ওই কিশোরের মাথায় আঘাত করা হলে সে পানিতে তলিয়ে যায়। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ সদর হাসপাতালে গিয়ে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সৈয়দ আমীরুল হক বলেন, গতকাল রাতে হাসপাতালের মর্গে ওই কিশোরের লাশ আনা হয়। আজ ওই লাশের ময়নাতদন্ত হবে।

এদিকে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা গেছে, দুই পক্ষই লাঠি, বাঁশ ও নৌকার পাটাতনের কাঠ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। এ সময় এক কিশোরের মাথায় নৌকার পাটাতনের কাঠ দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে ওই কিশোর নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় ঘটনাস্থল থেকে লোকজন সরে যেতে থাকেন। তবে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষের ভিডিওটি এই ঘটনার কি না, তা যাচাই করে দেখছে পুলিশ।

নিহত কিশোরের বাবা শহিদুল্লাহ মিয়া বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনিক প্রায়ই নানুবাড়ি অর্থাৎ কালাইগোবিন্দপুর যেত। গতকাল সকালেও সেখানে গিয়েছিল সে। ওই এলাকায় তার বয়সীরা নৌকাভ্রমণে গেছে খবর পেয়ে বিকেল পাঁচটার দিকে আরও তিনজনের সঙ্গে সেতুর নিচে যায় সে।

এই ঘটনায় বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিহত কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী জানিয়েছেন, নৌকায় থাকা ও নদী থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া তিন কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ ছাড়া ওই কিশোরের মৃত্যুর কারণ ও পারিপার্শ্বিক ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন