default-image

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে (২৬) চার দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ওই নারী ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন সুফিয়া বেগম (৬০) ও শহীদুল্লাহ (৩৮)। তাঁরা একই উপজেলার বাসিন্দা।

মামলার বিবরণ ও ঘটনার শিকার নারী সূত্রে জানা যায়, ওই নারী ঈশ্বরগঞ্জের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী কাজের সুবাদে সুনামগঞ্জে থাকেন। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য ওই নারী সম্প্রতি প্রাইভেট কার চালানো শিখছেন। এ দেখে সুফিয়া বেগম তাঁকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেন। এ সময় সুফিয়া ওই নারীকে জানান, বিদেশ যেতে হলে পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে। এ জন্য দুই লাখ টাকা লাগবে। পরে ওই নারী সুফিয়াকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় রাজি করান। টাকা নেওয়ার পর ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টে নেওয়ার জন্য ওই নারীকে ২০ অক্টোবর সুফিয়া তাঁর বাড়িতে যেতে বলেন। নির্ধারিত দিনে ওই নারী সুফিয়ার বাড়ি যান। এ সময় সুফিয়া তাঁর আত্মীয় শহীদুল্লাহর কাছে ওই নারীকে নিয়ে যান। শহীদুল্লাহ ওই নারীকে পাসপোর্ট ও লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলে একটি গাড়িতে তুলে অপরিচিত জায়গায় নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখেন। ওই ঘরেই চার দিন আটকে রেখে শহীদুল্লাহ ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।

ওই নারী আরও বলেন, দিনের পর দিন ধর্ষণের শিকার হয়ে তিনি আহাজারি করতেন। একপর্যায়ে শহীদুল্লাহ গত বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁকে ঈশ্বরগঞ্জের একটি এলাকায় ফেলে যান। সেখান থেকে তিনি বাড়িতে ফেরেন।

ওই নারী বলেন, গত চার দিন বাড়িতে না থাকার বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দিতে না পারায় স্বামী তাঁকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়েছেন। ওই নারী আহাজারি করে বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা দিলাম। আবার ধর্ষণের শিকার হলাম। এখন আমি স্বামী ও সংসার হারালাম।’

অভিযুক্ত শহীদুল্লাহকে আজ বিকেলে তাঁর এলাকায় গিয়ে পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি জানান, সন্ধ্যার পরে এই বিষয়ে কথা বলবেন। সন্ধ্যার পর থেকে শহীদুল্লাহর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0