পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া এ হাকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনে গত শুক্রবার রাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত শহীদ মিনারের ওপর বড় বড় গাছ ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ পূর্বনির্ধারিত একুশের অনুষ্ঠান স্থগিত করে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকার বেশ কিছু লোক একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ফুলের তোড়া নিয়ে বিদ্যালয়ের চত্বরে অবস্থিত শহীদ মিনারে যান। এ সময় তাঁরা শহীদ মিনারের ওপর বড় বড় গাছের গুঁড়ি পড়ে থাকতে দেখেন। একই সময় বিদ্যালয় ভবনের দোতলায় ও সিঁড়িতে আগুন জ্বলে ওঠে। এ সময় সবাই ফসলের খেতে পানি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত পাওয়ার পাম্প চালু করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা আগুন নেভাতে সক্ষম হন।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য তারা আগেভাগেই তৈরি হয়ে বিদ্যালয় চত্বরে উপস্থিত হয়।
কিন্তু সেখানে গাছ ফেলে রাখায় ও ভবনে আগুন লাগায় তারা আর ফুল দিতে পারেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহতাব হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবনে আগুন লাগানো এবং শহীদ মিনারে গাছ ফেলে রাখার কাজ দুটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। ভবনের দোতলায় কিছু শুকনো লাকড়ি ছিল। দুর্বৃত্তরা সেগুলো দিয়েই ভবনে আগুন ধরিয়েছে। তবে কারা এ কাজ করছে, তা বলতে পারছি না। এ কারণে শনিবার সকালের একুশের আলোচনা অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে।’
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নুল আবেদীন বলেন, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন