default-image

কিশোরগঞ্জ সদরের মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ ২০ হাজার টাকার গাছ অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের দখল করা জায়গার ১৪টি আকাশিগাছ বিক্রির এমন অভিযোগে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও প্রধান শিক্ষক নূরুন্নাহার শেলী যৌথভাবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা সদরের লতিবাবাদ ইউনিয়নের বড়ভাগ এলাকার মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দখলে থাকা ১৪টি আকাশিগাছ একই এলাকার তারা মিয়া ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অজান্তে স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী মো. হযরত আলীর কাছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। ক্রেতার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা অগ্রিমও নিয়েছেন তাঁরা। গত শুক্রবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালে গাছ ব্যবসায়ী দুটি গাছ কেটে নিয়ে যান। পরদিন সকালে বিদ্যালয়ে এসে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের গাছ কাটারত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গাছ কাটায় বাধা দেয়। এতে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে চলে যান। ফলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁরা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাদির মিয়ার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গতকাল রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনের অংশে অন্তত চারটি বড় গাছের ডালপালা কেটে গোড়ার অর্ধেক কাটা অবস্থায় রাখা। ৫০-৬০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গাছ শিকড় পর্যন্ত কেটে মাটি দিয়ে গর্ত ভরাট করে রাখা আছে। এ সময় সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম কাটা গাছ পরিদর্শন করছিলেন। জহিরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনে মূল্যবান এ গাছগুলো কে বা কারা কেটে নিয়ে যাচ্ছে, এমন অভিযোগ পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে এসে এর সত্যতা পান। এ বিষয়ে তাঁরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

গাছ বিক্রির অভিযোগ ওঠা তারা মিয়া এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, এসব গাছ বিক্রি ও কাটা—সবকিছুই স্থানীয় ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আমিনুল হকের উদ্যোগে হয়েছে। কিন্তু বাড়ির পাশে বিদ্যালয় হওয়ায় এ ঘটনায় তিনি সঙ্গে ছিলেন। তবে আমিনুল হক গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং যাঁদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরাই গাছ বিক্রি ও কাটার সঙ্গে জড়িত।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাদির মিয়া বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের গাছ এভাবে কাটার কোনো নিয়ম নেই। যদি কেউ আইনবহির্ভূতভাবে গাছ কেটে বিক্রি করেন, তাহলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন