রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে গতকাল শনিবার ভোরে সুরাইয়া ইয়াসমিন ওরফে ঝর্ণা (৩৮) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের স্ত্রী।
সুরাইয়ার ভাইয়ের অভিযোগ, স্বামীর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সইতে না পেরে সুরাইয়া আত্মহত্যা করেছেন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশ জানায়, সুরাইয়ার স্বামী মোহাম্মদ আলী টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক। স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বেগুনবাড়ি এলাকায় সরকারি কোয়ার্টার তিস্তা ভবনের নিচতলার বাসায় থাকতেন সুরাইয়া। গতকাল ভোর চারটার দিকে ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে সুরাইয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
লাশ উদ্ধারকারী কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ওই বাসায় সুরাইয়ার স্বামী মোহাম্মদ আলী, ভাই মনিরুজ্জামানা পান্না ও দেবর সাদ্দাম হোসেন ছিলেন। মোহাম্মদ আলী পুলিশকে বলেছেন, কী কারণে সুরাইয়া আত্মহত্যা করেছেন, তা তিনি জানেন না। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হতেই পারে। পরে মনিরুজ্জামানের কাছে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও সর্বশেষ ঝগড়ার জেরে সুরাইয়া আত্মহত্যা করেছেন।
তবে সুরাইয়ার দেবর সাদ্দাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মনিরুজ্জামান ভাইয়ের সঙ্গে কথা না বলায় ভাবি আমার ভাইয়ের ওপর রাগ করেন। এ নিয়ে ঝগড়াও হয়। এর জেরে ভাবি আত্মহত্যা করেছেন।’ তবে দীর্ঘদিনের কোনো কলহ ছিল না বলে দাবি করেন সাদ্দাম।
মনিরুজ্জামান ও সাদ্দাম হোসেন পুলিশকে জানান, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার পর গত শুক্রবার রাতে কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন সুরাইয়া। পরে দরজা ভেঙে লাশ নামিয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে সুরাইয়া আত্মহত্যা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
সুরাইয়ার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়।
গত শুক্রবার নিজের ছেলেকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে সুরাইয়ার বাসায় বেড়াতে আসেন ছোট ভাই মনিরুজ্জামান। মনিরুজ্জামান পান্না প্রথম আলোকে বলেন, সুরাইয়ার ২২ বছরের সংসার। ২০০০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বামী মোহাম্মদ আলীর চাকরি হয়। চাকরির পর থেকে সুরাইয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। যখন-তখন তিনি সুরাইয়াকে মারধর করতেন, মানসিক নির্যাতন করতেন।
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সুরাইয়ার স্বামী মোহাম্মদ আলীকে পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0