পুলিশে লোক নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষার জন্য বেঞ্চ নেওয়ায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় গতকাল বুধবার বন্ধ ছিল। আজ বৃহস্পতিবারও পড়ানো (ক্লাস) হবে না বলে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, ওয়াজির আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় শহরের এইচ এস এস সড়কে অবস্থিত। ৬০০ শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করে। গতকাল সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে দেখে বেশির ভাগ শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চ নেই। কিছুক্ষণ পর শিক্ষকেরা জানিয়ে দেন, ক্লাস হবে না। বৃহস্পতিবারও (আজ) ক্লাস বন্ধ।
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রাজু আহম্মদ জানায়, তারা স্কুলে এসে জানতে পারে ক্লাস হবে না। তাই বাড়ি ফিরে যায় তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, শহরের স্কুল হওয়ায় তাঁদের মাঝেমধ্যে নানা ধরনের চাপ সহ্য করতে হয়। সরকারি কোনো কর্মসূচিতে প্রয়োজনে তাঁদের বিদ্যালয় থেকে বেঞ্চ নেওয়া হয়। জাতীয় বিভিন্ন দিবসে শহরে শোভাযাত্রা হয়। সেই শোভাযাত্রায় লোক প্রয়োজন হলে তাঁদের বলা হয় ছাত্রছাত্রী দিতে। ওই শিক্ষক আরও বলেন, সামান্য কারণে দুই দিন স্কুল বন্ধ থাকা খুবই দুঃখজনক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফোন দিয়ে পুলিশে লোক নিয়োগের কাজে ব্যবহারের জন্য বেঞ্চ চাওয়া হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশের পক্ষ থেকে লোকজন এসে ১০০টি বেঞ্চ পুলিশ লাইনে নেয়।
মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মদ বলেন, একটা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সব বেঞ্চ নিয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে বেঞ্চ নিলে স্কুলটি বন্ধ হতো না। শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হতো না।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে এভাবে বেঞ্চ নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। তা ছাড়া বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিষয়টি না জানিয়ে বেঞ্চ দিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।
জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) গোপীনাথ কাঞ্জিলাল মুঠোফোনে বলেন, সরকারি প্রয়োজনে বেঞ্চগুলো আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানার জন্য জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন