default-image

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গোলাখালী গ্রামের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে বন বিভাগ খাল খনন ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গোলাখালী গ্রামের উপেন্দ্রনাথ গাইন (৬০) ও মেহের আলী গাজী (৭০) বলেন, বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালি স্টেশন এলাকার সীমানা খাল খননের জন্য সুন্দরবন ও গ্রামবাসীর জমি চিহ্নিত করা হয়। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া প্রায় ৯০০ বিঘা আয়তনের এ গ্রামের লোকসংখ্যা সাত শতাধিক। এখানকার জমিতে চিংড়ির চাষ হয়।
গোলাখালীর গোপাল মণ্ডল, নাওসাত গাজী ও ইউনুস মোল্যা জানান, ভরাট হওয়া সীমানা খাল খনন না করে ওই খালের পাশ দিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে আরেকটি আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খাল খনন ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে বন বিভাগ। সুশীলন নামের একটি বেসরকারি সংস্থা কাজটি বাস্তবায়ন করছে। এ জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন ৫০ বিঘা জমি দখল করে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা আরও বলেন, প্রতিবছর বনে যাওয়ার আগে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল—ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে আশীর্বাদ নিতে এখানকার শত বছরের পুরোনো বনবিবির থানে (পূজামণ্ডপ) আসেন। তবে যেভাবে খাল খনন করা হচ্ছে তাতে বনবিবির থান ভেসে যেতে পারে।
স্থানীয় প্রিয়তোষ বিশ্বাসের অভিযোগ, তাঁদের জমি নেওয়া হবে না—মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বন বিভাগের কৈখালি স্টেশনের কর্মকর্তা এফ এম জামাল তাঁর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেন। পরে আবারও টাকা চাইলে দিতে পারেননি। তাই তাঁর জমিতে খনন শুরু করেছেন তিনি (জামাল)। ইতিমধ্যে তাঁর ১২ বিঘা জমি দখল করে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি খাল খনন শুরু হলে গ্রামবাসী বন বিভাগের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।
প্রিয়তোষ আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আদেশ বলা হয়েছে, নালিশি জমি বাদীপক্ষের (গ্রামবাসীর)। পাশাপাশি একই বিষয়ে গ্রামবাসীর পক্ষে সন্তোষ বিশ্বাসসহ পাঁচজনের করা মামলাটি ছয় সপ্তাহের মধ্যে সাতক্ষীরা যুগ্ম জজ দ্বিতীয় আদালতকে নিষ্পত্তি করার আদেশ দেন। তার পরও বেসরকারি সংস্থা সুশীলনের মাধ্যমে বন বিভাগ খাল খনন ও বাঁধ নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুন্দরবনের সীমানা খালের কোথাও পাঁচ গজ আবার কোথাও ১০-১৫ গজ দূরত্বে আরেকটি খাল খনন করা হচ্ছে। চার শতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। সুন্দরবনের কৈখালি স্টেশন কর্মকর্তা এফ এম জামালের নেতৃত্বে বন বিভাগের দুজন নৌকাচালক (বিএম) রাইফেল নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন।
সুশীলনের সুন্দরী প্রকল্পের ব্যবস্থাপক তহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখন এক কিলোমিটারের কাজ করা হবে। বন বিভাগ তাঁদের যে জমি দেখিয়ে দিয়েছে, সেই জমির ওপর দিয়ে তাঁরা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন।
কৈখালি স্টেশনের কর্মকর্তা এফ এম জামাল আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, গ্রামবাসী আপত্তি করায় নোটিশ দিয়ে দুই দফা মাঠপর্যায়ের জরিপ করে জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কাগজ তিনি পাননি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন