পাবনার ঈশ্বরদীতে রেল পুলিশের ব্যারাক থেকে পুলিশ সদস্য সাইদুর রহমানকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করার এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই অপহরণ-কারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই পুলিশ সদস্যের ছেলেকে ‘চাকরি পাইয়ে দেওয়ার পর প্রতিশ্রুত অর্থ’ না পেয়ে এ অপহরণের ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ঈশ্বরদীর সাঁড়াগোপালপুর এলাকার শাকিল হোসেন (৩৫) ও চরমিরকামারী গ্রামের আরিফ বিশ্বাস (৩৮)। গতকাল রোববার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা সূত্র জানায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার কনস্টেবল সাইদুর রহমান গত শনিবার রাতে রূপসা ট্রেনে দায়িত্বরত অবস্থায় ঈশ্বরদী স্টেশনে নেমে বাবুপাড়ায় রেল পুলিশ ব্যারাকে অবস্থান করছিলেন। রাত পৌনে নয়টায় শাকিলসহ ১০ থেকে ১২ জন পিস্তল, লাঠি, লোহার রডসহ ওই ব্যারাকে ঢোকেন। সেখানে সাইদুর রহমানের কাছ থেকে শাকিল ও তাঁর সহযোগীরা প্রতিশ্রুত পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তাঁকে অপহরণের চেষ্টা চালান। তখন ব্যারাকের অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে অপহরণকারীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। তাঁরা সৈয়দপুর রেল পুলিশের সহকারী ট্রাফিক উপপরিদর্শক আতাবুল হোসেনের মাথায় আঘাত করেন এবং পিস্তল ঠেকিয়ে সাইদুরকে অপহরণ করে চারটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পরে তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে বেদম মারধর করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে ঈশ্বরদী থানা ও রেল পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে রাত সোয়া ১০টার দিকে শহরের মহিলা কলেজের সামনে থেকে সাইদুর রহমানকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে শাকিল ও আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঈশ্বরদী থানার ওসি বিমান কুমার দাশ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন পুলিশকে জানিয়েছেন, সাইদুরের ছেলেকে চাকরি পাইয়ে দিলে তাঁদের পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে চুক্তি হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুত টাকা না পেয়ে তাঁরা সাইদুরকে অপহরণ করেন।
এই চক্রের ১০ সদস্যের নামে গতকাল ঈশ্বরদী থানায় অপহরণ মামলা করেছেন সাইদুর রহমান।
মামলাটির তদন্ত করছেন ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান। তিনি জানান, অপহরণকারীরা একটি দালাল চক্র। তবে সাইদুর গতকাল জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন। প্রতারক চক্র তাঁর কাছ থেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন