default-image

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। ১২ নভেম্বর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করা হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার ৩ নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল ইসলাম এ আদেশ দেন। প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি সালাহউদ্দিন আহমেদ।

গত ২৭ অক্টোবর এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ রায় স্থগিত চেয়ে আদালতে আবেদন করে। নতুন করে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ১২০-বি এবং ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠনের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

পিপি সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায়। কিন্তু অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল দণ্ডবিধির ৩০২ ও দণ্ডবিধির ১২০-বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ধারায়। রাষ্ট্রপক্ষের করণিক ভুলে এ ঘটনা ঘটে। এ মামলার যুক্তিতর্কের শুনানির সময় বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে।

অভিযোগ গঠনের সংশোধনী চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে বলা হয়, এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিন আসামি জেলহাজতে আছেন। তাঁরা হলেন জিকরুল্লাহ ওরফে হাসান, আরিফুল ইসলাম ওরফে মুশফিক ওরফে এরফান, সাইফুল ইসলাম ওরফে মানসুর।

বিজ্ঞাপন

আর জুনেদ ওরফে জুনায়েদ আহমেদ ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবদুল্লাহ পলাতক। ব্লগার ওয়াশিকুর হত্যায় ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হন জিকরুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম। পরে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় সাইফুল ইসলামকে। এ খুনের ঘটনার সময় জেলখানায় ছিলেন তিনি। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলায় সব আসামির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

এ হত্যা মামলায় ২০১৬ সালের ২০ জুলাই নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

২০১৫ সালের ৩০ মার্চ রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বেগুনবাড়িতে দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে খুন হন ব্লগার ওয়াশিকুর। এ ঘটনার পরপরই জনতা ধাওয়া করে মাদ্রাসাছাত্র জিকরুল্লাহ ও আরিফুলকে ধরে ফেলেন। আর সাইফুলকে হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে অস্ত্রসহ যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন চারজনকে আসামি করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় এ মামলা করেন ওয়াশিকুরের দুলাভাই মনির হোসেন।

ঢাকার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করে ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর আনসারুল্লাহর পাঁচ সদস্যকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পলাতক আসামি আবদুল্লাহ হত্যার পুরো বিষয়টি পরিকল্পনা করেছিলেন এবং বাস্তবায়নের জন্য কাজ করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0