নওগাঁর মহাদেবপুরে ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন আবু তাহের (৬৫) নামের এক ব্যক্তি। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। জেলার পত্নীতলায়ও একজন খুন হয়েছেন। ধর্ষণ করতে গিয়ে ওই ব্যক্তি খুন হন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া নীলফামারীর ডিমলা, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।
স্থানীয় ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে মহাদেবপুর থানার পুলিশ জানায়, জমি নিয়ে উপজেলার তিলন গ্রামের আবু তাহের ও তাঁর সৎভাই হায়দার আলীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে শুক্রবার সন্ধ্যার পর দুই পরিবারের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হায়দার আলী ও তাঁর চার ছেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে আবু তাহেরের ওপর হামলা চালান। এ সময় আবু তাহেরের ছেলে এমরান হোসেন বাবাকে বাঁচাতে এলে তাঁকেও বেদম মারধর করা হয়। গুরুতর অবস্থায় আবু তাহেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মহাদেবপুর থানার এসআই ইকবাল পাশা জানান, ঘটনার পর থেকে হামলাকারীরা পলাতক। এ ঘটনায় হায়দার আলীসহ সাতজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে।
নওগাঁর পত্নীতলায় নিহত ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান (৪৫)। তিনি উপজেলার নজিপুর পৌর এলাকার সামসুদ্দিন আহমেদের ছেলে। পুলিশের দাবি, হাফিজ একটি ডাকাত দলের সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পত্নীতলা থানার ওসি মো. আবদুর রফিক জানান, শুক্রবার ভোরে একই এলাকার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হাফিজ খুন হন। ওই বাড়ির গৃহকর্তা প্রাকৃতিক কাজে ঘরের বাইরে যান। সেই সুযোগে হাফিজ ওই ঘরে ঢুকে তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তখন স্ত্রীর চিৎকার শুনে গৃহকর্তা দৌড়ে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাফিজকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে তিনি সপরিবারে পালিয়ে যান। ওসি জানান, হাফিজ একটি অস্ত্র মামলায় ১২ বছর জেলে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জামিনে ছাড়া পান।
তিনজনের লাশ উদ্ধার: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পার্বতীপুর গ্রাম থেকে গতকাল শনিবার আমজাদ আলী (২৮) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি পার্শ্ববর্তী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর কালীতলা গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে।
আমজাদের পরিবার জানায়, তিনি শুক্রবার পার্বতীপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। গতকাল সকালে পার্বতীপুর গ্রামের একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।
নীলফামারীর ডিমলায় উদ্ধার হয়েছে আকতারুজ্জামান (২৭) নামের এক ব্যক্তির লাশ। তিনি উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়া তালতলা গ্রামের সাহেদুল ইসলামের ছেলে।
নিহতের ভাই আতাউর রহমান জানান, আকতারুজ্জামান পঞ্চগড় জেলা কর কমিশনার কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর ছিলেন। তিনি শুক্রবার রাতে কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে জলঢাকা-ডালিয়া সড়কের সোনাখুলি স্লুইসগেট এলাকায় একটি ভুট্টাখেতে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। গতকাল সকালে ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গজ দূরে পাওয়া যায় তাঁর মোটরসাইকেলটিও। ডিমলা থানার ওসি বলেন, আকতারুজ্জামানের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে উদ্ধার হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ। গতকাল সকালে উপজেলার পাঙ্গাসী এলাকায় ইছামতী নদীর ব্রিজের নিচে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। তাঁর বয়স আনুমানিক ২০ বছর। লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
{প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন গাইবান্ধা, নীলফামারী, আদমদীঘি (বগুড়া) ও রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি}

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন